বাবাকে হত্যার পর বোনের সামনে মরদেহ টুকরা টুকরা করলেন তরুণ

নিহত মানবেন্দ্র সিংহ (বাঁয়ে) ও তাঁর ছেলে অক্ষয় প্রতাপ সিংহছবি: এনডিটিভির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেওয়া

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে বাবাকে হত্যার অভিযোগে ২১ বছর বয়সী এক তরুণকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য, ওই তরুণের বাবা চাইতেন, ছেলে চিকিৎসক হোক। এ কারণে তিনি ছেলেকে মেডিক্যালের ভর্তি পরীক্ষায় বসতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু ছেলের ইচ্ছা ছিল না। এ নিয়ে বাবা–ছেলের মধ্যে চরম দ্বন্দ্ব চলছিল।

পুলিশ আরও বলেছে, এই দ্বন্দ্ব থেকে ঝগড়ার এক পর্যায়ে ছেলে বাবাকে গুলি করেন, তারপর তাঁর মৃতদেহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে টুকরা টুকরা করেন এবং কয়েকটি টুকরা পাশের একটি এলাকায় নিয়ে ফেলে দেন।

নিহত ব্যক্তির নাম মানবেন্দ্র সিংহ, বয়স ৪৯ বছর। তাঁর ওষুধ ও মদ বিক্রির ব্যবসা ছিল। গত শুক্রবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

পুলিশের কাছে মানবেন্দ্রের নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ করার পর পুলিশ তাঁর বাড়িতে গেলে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসে। পুলিশ বাড়িতে তল্লাশি করে একটি ব্যারেলের ভেতর খণ্ডিত মৃতদেহ খুঁজে পায়। এরপরই তারা মানবেন্দ্রর ছেলে অক্ষয় প্রতাপ সিংহকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অক্ষয় খুনের কথা স্বীকার করেন এবং কীভাবে মৃতদেহ টুকরা ফেলে দিয়েছেন, সেটার বিস্তারিত জানান।

পুলিশ বলেছে, মানবেন্দ্র চাইতেন ছেলে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিক। এ নিয়ে বাবা–ছেলের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এমনকি একবার ঝগড়ার পর অক্ষয় বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

শুক্রবার বিকেলেও বাবা–ছেলের ঝগড়া শুরু হয়। ঝগড়ার এক পর্যায়ে অক্ষয় একটি রাইফেল দিয়ে বাবাকে গুলি করেন। এরপর তিনি বাবার মৃতদেহ তিনতলা থেকে টেনে একতলায় নামান। একটি খালি ঘরে নিয়ে মৃতদেহ টুকরা টুকরা করেন।

সে সময় অক্ষয়ের বোন তাঁর এ কাণ্ড দেখে ফেলেন। অক্ষয় বোনকে ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বলেন। তারপর বোনের চোখের সামনেই বাবার মৃতদেহ টুকরা টুকরা করেন এবং কিছু অংশ প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে কাছের সাদারুনায় ফেলে আসেন। আর দেহের কয়েকটি টুকরা বাড়ির ভেতর একটি নীল রঙের ড্রামে ভরে রাখেন।

অক্ষয়ের স্বীকারোক্তির পর একটি ফরেনসিক দল বাড়ির ভেতর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে। মরদেহের ফেলে দেওয়া টুকরাগুলো উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অক্ষয়কে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্ণৌর আশিয়ানা এলাকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিক্রান্ত বীর বলেন, প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলোর অধীন মামলা হবে এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।