৪০ বছর বয়সী ইসুদান গত বছরের জুনে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন।
আপ পাঞ্জাবের ফর্মুলা অনুসরণ করল গুজরাটেও। এর আগে পাঞ্জাবের নির্বাচনের আগেও, একই পদ্ধতিতে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে ভগবন্ত সিং মানকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। পাঞ্জাবে আগেভাগে এভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বেছে নিয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন কেজরিওয়াল, গুজরাটেও তেমনটাই আশা করছে দলটি। ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষকে বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে আম আদমি পার্টি।

রাজনীতিতে ইসুদান গড়বি বড় কোনো নাম না হলেও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতা হিসেবে গুজরাটে পরিচিত ইসুদান। একসময় ভারতের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যালেন দুরদর্শনে কাজ করেছেন। নিউজ অ্যাঙ্কর হিসেবেও ছিলেন জনপ্রিয়। ‘যোজনা’ নামে দূরদর্শনের একটি শোর মধ্য দিয়ে পেশাদারি জীবন শুরু ইসুদানের। পরে ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইটিভি গুজরাটির হয়ে অনফিল্ড সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছিলেন। অবৈধ গাছ কাটার কোটি কোটি রুপির দুর্নীতির খোঁজ দিয়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন।

২০১৫ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ভিটিভি গুজরাটিতে ‘মহামন্থন’ নামে আরও একটি জনপ্রিয় প্রাইম-টাইম টিভি শো হোস্ট করতেন তিনি। সাংবাদিক হিসেবে মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে রিপোর্ট করেছেন। সাংবাদিকতার করার সময় গুজরাটে একাধিক বড় দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন করেছেন। ইসুদানের সেই ভাবমূর্তিকেই কাজে লাগাতে চাইছেন কেজরিওয়াল।

২০২১ সালের জুনে গুজরাটের আহমেদাবাদে আপ গুজরাটের রাজ্য সদর দপ্তরের উদ্বোধন করেন কেজরিওয়াল। সে সময় কেজরিওয়ালের উপস্থিতিতে দলে যোগ দেন ইসুদান গড়বি।

দ্বারকা জেলার এক সমৃদ্ধ কৃষক পরিবারে জন্ম ইসুদান গড়রি। গড়বি জাতি গুজরাটে অন্যান্য পিছিয়ে থাকা জাতি বা ওবিসির অন্তর্ভুক্ত। গুজরাটের ভোটারদের মধ্য ৪৮ শতাংশই ওবিসির। গড়বির নিজস্ব জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জাতিপরিচয়ও গুজরাটে আপের সম্ভাবনা বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ১৮২ আসনের গুজরাট বিধানসভায় এখন পর্যন্ত ১১৮ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে আপ।

গুজরাটে ২৭ বছর ধরে ক্ষমতায় আছে বিজেপি। সবশেষ পাঁচবারের মধ্যে সবচেয়ে কম আসনে জয় পায় নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটির দল। ১৮২ আসনের মধ্যে বিজেপি পায় ৯৯ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৭৭ আসন। অন্য দল পেয়েছে ৬টি আসন। এই পাঁচ বছরে মুখ্যমন্ত্রী বদল করছে পদ্ম শিবির।

গুজরাট রাজ্য বিধানসভার ভোট হবে দুই দফায়। প্রথম দফার ভোট আগামী ১ ডিসেম্বর, দ্বিতীয় দফার ৫ ডিসেম্বর। ফল ঘোষণা হবে ৮ ডিসেম্বর। গুজরাটের সঙ্গে একই দিনে ফল ঘোষিত হবে হিমাচল প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনেরও।

গুজরাট বিধানসভার মোট আসন ১৮২টি। প্রথম দফায় ভোট হবে ৮৯ কেন্দ্রের, দ্বিতীয় দফায় ৯৩টির। এ রাজ্যের ভোটে এত দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দ্বিমুখী। লড়াই হতো বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে। এই প্রথম রাজ্য দখলে কোমর বেঁধে নেমেছে আম আদমি পার্টি। তাই এবার লড়াই হবে ত্রিমুখী। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি