গত ১৪ অক্টোবর হিমাচল প্রদেশের ভোটের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছিল। ওই দিনই প্রশ্ন উঠেছিল, গুজরাটে ভোট গ্রহণের তারিখ কেন ঘোষণা করা হলো না। রাজনৈতিক মহলে জল্পনার শুরু, শাসক দলকে সুবিধা করে দিতেই প্রধানমন্ত্রীর রাজ্যের ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশন নীরব।

নিয়ম অনুযায়ী ভোটের তারিখ ঘোষণা হয়ে গেলে কোনো রকম উন্নয়ন কর্মসূচি ঘোষণা করা যায় না। নেওয়া যায় না নীতিগত কোনো সিদ্ধান্তও। তবে আজ সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার বলেন, রাজ্য বিধানসভার মেয়াদ শেষ হবে ১৮ ফেব্রুয়ারি। ভোটের দিন ঘোষণার আগে আবহাওয়াসহ বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধা খতিয়ে দেখতে হয়।

তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারে দাবি ধোপে টিকছে না। তার প্রমাণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একের পর এক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। শুধু অক্টোবরেই প্রধানমন্ত্রী গুজরাট সফর করেছেন তিনবার। তৃতীয়বারের তিন দিনের সফর শেষে তিনি দিল্লি ফেরেন গত মঙ্গলবার। এক দিন পরই ঘোষিত হলো নির্বাচনের তারিখ।

গুজরাট দখলে রাখতে প্রধানমন্ত্রী কতটা মরিয়া, সেটা তাঁর এসব সফরেই বোঝা যায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত গত সাত মাসে গুজরাটে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭২০ কোটি রুপির সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন কিংবা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন। এর বাইরে বেসরকারি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা উদ্বোধন করেছেন ২ লাখ ৩৬ হাজার কোটি রুপির।

এর মধ্যে দুটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্র ও গুজরাটে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারতীয় সামরিক বাহিনীর জন্য টাটা ও এয়ারবাসের যৌথ উদ্যোগে যে সি-২৯৫ পরিবহন বিমান তৈরি হবে, সেই প্রকল্পটি প্রাথমিকভাবে মহারাষ্ট্রে স্থাপন করার কথা ছিল। কিন্তু ২২ হাজার কোটি রুপির সেই প্রকল্প হঠাৎ গুজরাটে স্থানান্তরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

এ নিয়ে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা হারানো শিবসেনার সঙ্গে বর্তমান ক্ষমতাসীন জোট শিবসেনার একাংশ ও বিজেপি জোটের বিবাদ চরমে ওঠে। শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরের অভিযোগ, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মহারাষ্ট্রের প্রকল্পগুলো গুজরাটে নিয়ে যাওয়া হয়।

টাটা-এয়ারবাস প্রকল্পের মতোই স্থানান্তরিত হয়েছে ফক্সকন ও বেদান্ত গোষ্ঠীর যৌথ উদ্যোগে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির প্রকল্পও। এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে ১ লাখ ৫৪ হাজার কোটি রুপি।

এ ছাড়া আর্সেলর মিত্তল ও নিপ্পনের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রসারিত হচ্ছে ইস্পাত কারখানা। এই প্রকল্পে বিনিয়োগ হবে ৬০ হাজার কোটি রুপি। ভোট তারিখ ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন তিন হাজার কোটি রুপির রেল প্রকল্পেরও।

১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর এক মাসের রাষ্ট্রপতি শাসন বাদ দিলে ১৯৯৫ সালের মার্চ থেকে বিজেপি নিরবচ্ছিন্নভাবে গুজরাট শাসন করে এসেছে। এই সময়ের মধ্যে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন আটজন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সময় রাজ্য শাসন করেছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের মে পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

গুজরাট বিধানসভার মোট আসন ১৮২টি। প্রথম দফায় ভোট হবে ৮৯ কেন্দ্রের, দ্বিতীয় দফায় ৯৩টির। এই রাজ্যের ভোটে এত দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দ্বিমুখী। লড়াই হতো বিজেপি আর কংগ্রেসের মধ্যে। এই প্রথম রাজ্য দখলে কোমর বেঁধে নেমেছে আম আদমি পার্টি। তাই এবার লড়াই হবে ত্রিমুখী।