মোদি সরকার কি লাদাখে চীনকে এক হাজার বর্গমিটার ছেড়ে দিতে চলেছে, জানতে চায় কংগ্রেস

ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে ভারতীয় বাহিনী। পূর্ব লাদাখ, ভারত, ১৫ আগস্ট
ছবি: এএনআই

পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (এলএসি) স্থিতাবস্থা ফেরাতে ভারত ও চীনের সেনা পর্যায়ের ১৯তম বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায় কংগ্রেস সরব হলো। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বুধবার সরকারের কাছে সরাসরি জানতে চান, ভারতমাতাকে রক্ষা করার বাগাড়ম্বর দূর করে কবে সীমান্তে স্থিতাবস্থা ফেরত আসবে।

পূর্ব লাদাখে ২০২০ সালের জুনে ভারত ও চীনা ফৌজের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। সেই লড়াইয়ে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার না হলেও দুই পক্ষে বহু সেনা হতাহত হন। সেই থেকে এলএসিতে সংঘর্ষ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে আনতে চীনকে চাপ দিয়ে চলেছে ভারত। কিন্তু এখনো তা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত সোমবার দুই দেশের সেনা পর্যায়ের ১৯তম বৈঠক বসেছিল। কিন্তু সেই বৈঠকেও সমাধান সূত্র মেলেনি। তারপরই কংগ্রেস এমন মন্তব্য করল।

বৈঠকের পর দুই দেশ থেকে যে যৌথ বিবৃতি প্রচার করা হয়, তাতে সমাধান অধরা থাকার কথাই বলা হয়েছে। সেই খবর উল্লেখ করে বুধবার সুরজেওয়ালা বলেন, তিন বছর ধরে প্রতিটি বৈঠকই ব্যর্থ হচ্ছে। ২০২০ সংঘর্ষ-পূর্ববর্তী স্থিতাবস্থা এখনো ফিরে আসেনি।

রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা বলেন, ‘ভারতের জমিতে ভারতীয় বাহিনী মোট ৬৫টি টহলদারি এলাকার মধ্যে ২৬টির ধারেকাছে পৌঁছাতে পারে না। আমাদের জমিতে আমাদের যেতে বাধা দেয় চীনা বাহিনী।’

খুদে ব্লগের মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) রণদীপ এক খুদে বার্তায় সরকারের কাছে জানতে চান, ভারতের জমি থেকে চীনা ফৌজকে কবে বিতাড়িত করা সম্ভব হবে? তাঁর প্রশ্ন, মোদি সরকার কি চীনকে এক হাজার বর্গমিটার ছেড়ে দিতে চলেছে? এই দখল মেনে নিতে চলেছে?

সরকারিভাবে ভারত কিন্তু এখনো স্বীকার করেনি যে চীন জমি দখল করে বসে রয়েছে; বরং ২০২০ সালের সংঘর্ষের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সর্বদলীয় বৈঠকে বলেছিলেন, কেউ জমি দখল করেনি। কোনো ঘাঁটিও দখলদারদের হাতে নেই। কিন্তু সেই মন্তব্য যে সত্য ছিল না, স্থিতাবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবির মধ্য দিয়ে তা পরিষ্কার। জমি যদি না-ই দখল হয়ে থাকে, তাহলে সংঘর্ষ-পূর্ববর্তী এলাকায় চীনা ফৌজকে পিছিয়ে যেতে কেন ভারত জোরালো দাবি জানিয়ে চলেছে?

সুরজেওয়ালাও বুধবার নতুন করে  প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি জানতে চান, ‘চীনকে রক্তচক্ষু দেখিয়ে কবে স্থিতাবস্থা ফেরানো যাবে? প্রধানমন্ত্রী কি এখনো সেই মন্তব্যে অনড় যে কেউ আমাদের জমিতে ঢোকেনি? কেউ যদি না-ই ঢুকে থাকে, তাহলে চীনের সঙ্গে একটার পর একটা বৈঠক কেন হচ্ছে?’ তিনি এ কথাও জানতে চান, চীনা ফৌজ অবৈধভাবে ভারতীয় ভূখণ্ড দখলে রেখেছে বলে সেনাপ্রধানের মন্তব্য কি অসত্য ছিল?

২০২০ সালের সংঘর্ষের পর পূর্ব লাদাখে চীনের নতুন করে জমি দখল নিয়ে কংগ্রেস শুরু থেকেই সরব। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পূর্ব লাদাখে সর্বদলীয় সংসদীয় দল নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু সরকার তা মেনে নেয়নি। সংসদে এ নিয়ে আলোচনা করতেও সরকার রাজি নয়।

চীন প্রশ্নে মোদি সরকার যথেষ্ট স্পর্শকাতর। এতটাই যে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে গত বছরের নভেম্বরে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়টিও সরকার চেপে গিয়েছিল। আগামী মাসে জি-২০-এর শীর্ষ সম্মেলনে দিল্লিতে সি চিন পিংয়ের আসার কথা। ভারত চাইছিল, তার আগে পূর্ব লাদাখের ডেপসাং ডেমচক এলাকায় স্থিতাবস্থা ফেরানোর বৈঠক ফলপ্রসূ করে তুলতে।

আরও পড়ুন