রাজস্থানে ২০২০ সালে উপমুখ্যমন্ত্রী পাইলটের নেতৃত্বে কংগ্রেস বিধায়কদের একাংশের বিদ্রোহের কারণে গেহলটের সরকারের পতনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে ওই বিদ্রোহের অবসান হয়।

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে আসছেন পাইলট। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে গেহলট বলেন, ‘না, তিনি (পাইলট) এ কথা বলতে পারেন না। পুরো খেলাটাই ছিল তাঁদের। বিজেপি ১০ কোটি রুপি বিতরণ করেছিল। আমার কাছে প্রমাণ আছে।’

সবাইকে ১০ কোটি রুপি করে দেওয়া হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে গেহলট বলেন, ‘আমি জানি না পুরোটা কার কাছে। কেউ ৫ কোটি, কেউ ১০ কোটি পেয়েছেন। এমনকি দিল্লিতে বিজেপি অফিস থেকেই এই অর্থ নেওয়া হয়েছিল। অনেকেই সেখান থেকে অর্থটা নিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেরাই আমাকে এ কথা বলেছেন।’

তবে গেহলটের এ ধরনের মন্তব্য ‘মিথ্যা’ ও ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করে দেন পাইলট। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে একেবারেই ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে পাইলট বলেন, ‘অশোক গেহলট আমাকে অযোগ্য ও গাদ্দার বলেছেন। আমার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ এনেছেন। এসব অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অপ্রয়োজনীয়।’

গেহলটকে ইঙ্গিত করে তরুণ এই নেতা বলেন, তাঁর বরং গুজরাটের বিষয়ে গুরুত্ব দিলেই আরও ভালো হয়। উল্লেখ্য কয়েক দিন পরই গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন। এই রাজ্যে কংগ্রেসের নির্বাচনের বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব পেয়েছেন গেহলট।

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি পদে গান্ধী পরিবারের পছন্দের তালিকায় ছিলেন প্রবীণ নেতা অশোক গেহলট। হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত ছিল, গেহলট সভাপতি হলে পাইলটকে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। কিন্তু এতে বেঁকে বসেন গেহলটের অনুসারী বিধায়কেরা।

প্রায় ৯০ জনের বেশি বিধায়ক পদত্যাগের হুমকি দিলে রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের পতনের ঝুঁকি তৈরি হয়। বিপাকে পড়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ান গেহলট। শশী থারুরকে হারিয়ে মল্লিকার্জুন খাড়গে হন কংগ্রেসের নতুন সভাপতি।