র‌্যাগিংয়ে ছাত্রের মৃত্যু: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ

র‌্যাগিংয়ের শিকার স্বপ্নদ্বীপ কুন্ডু ও অভিযুক্ত সৌরভ চৌধুরী
ছবি: সংগৃহীত

র‌্যাগিংয়ের শিকার হয়ে প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এ নিয়ে গতকাল বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুটি ছাত্র সংগঠনের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

পশ্চিমঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের (এআইডিএসও) মধ্যে গতকাল বিকেলে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দাবি, তারা প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে যাওয়ার পথে এআইডিএসওর সমর্থকেরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এআইডিএসওর নেতা–কর্মীরা তৃণমূল ছাত্র পরিষদকে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে না দেওয়ার চেষ্টা করে। এআইডিএসওর দাবি, তৃণমূল ছাত্র পরিষদই রাজ্যের শিক্ষাঙ্গণগুলোতে অশান্তি ছড়িয়েছে। এটা নিয়ে বিকেলে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

গত বুধবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় হোস্টেলের একটি কক্ষে র‌্যাগিংয়ের শিকার হন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী স্বপ্নদ্বীপ কুণ্ডু। প্রায় ১২০ মিনিট ধরে তাঁকে র‌্যাগ দেওয়া হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলের তৃতীয় তলার বারান্দা থেকে পড়ে মারা যান তিনি।

এর জেরে অশান্ত হয়ে ওঠে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এরপর গত শনিবার এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী সৌরভ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন মনতোষ ঘোষ এবং দীপশেখর দত্ত নামে সন্দেহভাজন আরও দুই শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ ঘটনা আরও ছয় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীর জড়িত থাকার তথ্য পায় পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা হলেন, অংকন সরকার, সুমন নস্কর, সপ্তক কামিল্যা, আসিফ আজমল, মহম্মদ আরিফ এবং অসিত সরদার।

আরও পড়ুন

গতকাল বুধবার এই ছয় সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাঁদের ১২ দিনের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।এ নিয়ে ‘র‌্যাগিং–কান্ডে’ পাঁচজন সাবেক ও চারজন বর্তমান শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ।

এদিকে র‌্যাগিংয়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর জেরে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রতিবাদী মিছিল করেছে। মিছিল ও সমাবেশ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় র‌্যাগিং মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

স্বপদ্বীপ কুন্ডুর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের নদী জেলায়। এ বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন তিনি। আসন না পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্র হোস্টেলে বিশেষ ব্যবস্থায় অতিথি হিসেবে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এ ব্যবস্থা করে দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সৌরভ চৌধুরী। তিনি গতবছর স্নাতকোত্তর শেষ করলেও এখনো হোস্টেলেই রয়ে গেছেন।

স্বপ্নদ্বীপের পরিবারের অভিযোগ, সৌরভ চৌধুরীর নেতৃত্বেই কিছু ছাত্র স্বপ্নদ্বীপকে র‌্যাগ দেন। তাঁকে একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। এরপরে তিনতলার বারান্দা থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আহত হন স্বপ্নদ্বীপ। পরদিন বৃহস্পতিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর।

আরও পড়ুন