বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে তৃণমূলের শিক্ষক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক করেছিলেন। এরপর বলেছিলেন, ‘চুরি রোধ আর শিক্ষাব্যবস্থাকে দুর্নীতিমুক্ত করার অভিপ্রায় নিয়ে আমাকে ওই পদে কাজ করতে হবে। কিন্তু ওই পদে যোগ দেওয়ার পরই আমার চোখ খুলে যায়। চারদিকে ছেয়ে আছে দুর্নীতির জাল। যদিও আমি তখন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে ছিলাম। চোখ বুজে সব দেখেছি, শুনেছি। মনে হয়েছিল শিক্ষা দপ্তর একাডেমিক মাফিয়ায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে।’ পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলতেন, আমার প্রতিটি কাজে সিলমোহর দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা।’

ওই টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, ‘তখন আমার শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতির অবস্থা দেখে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।’ তিনি আরও বলেন, শিক্ষা দপ্তরের ঘুষের টাকার ভাগও পেত মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরও। এ কথা তিনি শুনতে পান শিক্ষা দপ্তরের আধিকারিকদের মুখ থেকে।

যদিও পার্থর দুর্নীতি নিয়ে গতকাল সোমবার মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি দাবি করেন, ‘মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্নীতির সঙ্গে দল ও রাজ্য সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। দুর্নীতির দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হলেও আমি কিছু মনে করব না। বরং দ্রুত বিচার করে শাস্তি দেওয়া হোক।’

এই মন্তব্যের পর বিরোধী দল বলেছে, এই দুর্নীতির দায় মমতাকেই নিতে হবে। বিপদে পড়ে এখন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব ও মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের দুর্নীতির দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের বিরোধী দলের নেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, এবার দুর্নীতির দায় মুখ্যমন্ত্রীকেও নিতে হবে। মানুষ ক্ষমা করবে না।

ভারত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন