দুইজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে রয়টার্সকে বলেন, হেরাত প্রদেশে ইরানের সঙ্গে ইসলাম কঅলা সীমান্ত ক্রসিং তালেবান যোদ্ধারা দখল করে নিয়েছেন। হামলার মুখে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ কাস্টমস কর্মকর্তারা ইরানে পালিয়ে যান।

আরবি ভাষায় প্রচারিত ইরানের সরকারি টেলিভিশন আল-আলালাম টিভি জানিয়েছে, তালেবানের হাত থেকে বাঁচতে আফগান সেনারা সীমান্ত পার হয়ে ইরানে প্রবেশ করেছেন।

তবে আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তারিক আরিয়ান দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে ইসলাম কঅলা সীমান্ত ক্রসিং এখনো আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণেই আছে।

অন্য এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, বিনা বাধায় হেরাত প্রদেশের পাঁচটি জেলা দখল করে নিয়েছেন তালেবান যোদ্ধারা। অবশ্য এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে হেরাত প্রদেশের গভর্নর ও পুলিশপ্রধানের সঙ্গে রয়টার্স যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাঁরা কেউ ফোন ধরেননি।

এদিকে বালখ প্রদেশের উজবেকিস্তান সীমান্তে তালেবান যোদ্ধা ও আফগান সরকারি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এই সপ্তাহের শুরুর দিকে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশ বাদাখশানের বেশির ভাগ এলাকা দখল করে নেয় তালেবান। এ সময় এক হাজারের বেশি আফগান নিরাপত্তাকর্মী তাজিকিস্তানে পালিয়ে যান। প্রদেশটির সঙ্গে চীন ও পাকিস্তানের সীমান্ত রয়েছে

গত বুধবার আফগানিস্তানের বাদঘিস প্রদেশের রাজধানী কালা-ই-নাউ দখলে আফগান সেনা ও তালেবানের মধ্যে তুমুল লড়াই চলছে। শহরটির নিয়ন্ত্রণ ফেরত পেতে সেখানে শত শত কমান্ডো পাঠায় আফগান সরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ফুয়াদ আমান বলেন, ‘আফগান সরকার রাজধানীর পুনর্দখল নিয়েছে। শহরের আশপাশে তালেবানের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।’

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এখন পর্যন্ত এ অভিযানে ৬৯ জন তালেবান নিহত হয়েছে। তবে বাদঘিস প্রদেশের বাকি অংশ তালেবানের দখলে।

পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বলছেন, আফগানিস্তানের শতাধিক জেলা তালেবানের দখলে চলে গেছে। তবে আজ শুক্রবার তালেবান কর্মকর্তা শাহবুদ্দিন দেলওয়ার মস্কোতে বলেন, আফগানিস্তানের ৮৫ শতাংশ অঞ্চল তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।