হরমুজ প্রণালিতে হামলা ইরানের, আটকে পড়া হাজারো নাবিক উদ্ধারের অভিযান স্থগিত
হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলো ও তাতে অবস্থানরত হাজার হাজার নাবিক সরিয়ে নেওয়ার জাতিসংঘের অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানান। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এসব জাহাজ ও নাবিক হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওই কর্মকর্তা এ হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি। ইরানও এখন পর্যন্ত এ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) গতকাল জানিয়েছে, পণ্যবাহী একটি জাহাজের ডান দিকে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা বস্তু আঘাত করেছে। হামলায় জাহাজটির চালকের কক্ষ (ব্রিজ) ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইএমওর উদ্ধার পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের উদ্ধারের তালিকায় থাকা অন্যান্য জাহাজ এবং এই অঞ্চলে অবস্থানরত সবার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রয়েছে কি না, তা পুনর্মূল্যায়ন করতে আমি সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ, আইএমওর মহাসচিব
নোটিশে বলা হয়েছে, জাহাজের ক্যাপ্টেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি এবং পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয়নি। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করছে। পাশাপাশি ওই এলাকায় চলাচলকারী জাহাজগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে এবং যেকোনো সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে তা জানাতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএন হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি চুক্তির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। এর মাত্র কয়েক দিন পরই এ উদ্ধার অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত এল।
এক বিবৃতিতে আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, ‘আইএমওর উদ্ধার পরিকল্পনা শুরু হওয়ার পর ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি জাহাজ সফলভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের উদ্ধারের তালিকায় থাকা অন্যান্য জাহাজ এবং এই অঞ্চলে অবস্থানরত সবার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা রয়েছে কি না, তা পুনর্মূল্যায়ন করতে আমি সাময়িকভাবে এ কার্যক্রম স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
আর্সেনিও ডোমিঙ্গুয়েজ জানান, ওমান উপসাগরে একটি জাহাজে হামলার খবর পেয়েছেন তিনি। এটি হরমুজ প্রণালি পার হয়েছিল। জাহাজটি আইএমওর উদ্ধার কার্যক্রমের আওতায় কাজ করছিল না।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্প্রতি একটি চুক্তির ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আটকে পড়া ১১ হাজারের বেশি নাবিককে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছিল। এর মাত্র কয়েক দিন পরই এ উদ্ধার অভিযান স্থগিতের সিদ্ধান্ত এল।
ডোমিঙ্গুয়েজ বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি যে নাবিকদের নিরাপত্তাই সবার আগে। তাই একটি সমন্বিত পদক্ষেপ এবং নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার পরিকল্পনা স্থগিত থাকবে।’
ডোমিঙ্গুয়েজ উল্লেখ করেন, ‘আজ নাবিক দিবস। এ মুহূর্তটি পারস্য উপসাগরে আটকে পড়া হাজার হাজার নাবিককে উদ্ধার করার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে, যেন এই ভূরাজনৈতিক সংঘাতে তাঁরা অনাকাঙ্ক্ষিত শিকার না হন।’
এদিকে ইরানের পারস্য উপসাগরীয় সমুদ্রপথ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, তাদের নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না এবং তারা বিমা বা সংশ্লিষ্ট দায়ের আওতায় থাকবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে সংস্থাটি আরও বলেছে, অননুমোদিত রুটে ভ্রমণের সব দায় জাহাজের মালিক, অপারেটর ও কমান্ডারের থাকবে।
ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে না এবং তারা বিমা বা সংশ্লিষ্ট দায়ের আওতায় থাকবে না।
এ ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের চুক্তিটি এমন তিনটি দেশের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে রয়েছেন, যারা সম্ভবত এটি নিয়ে সবচেয়ে বেশি সংশয়ে রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সপ্তাহান্তে পৌঁছানো সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু প্রকাশ করেছে। একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ১৪ দফার এ নথি পড়ে শোনান, যেখানে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, ইরানের ওপর থেকে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে বলা হয়েছে।