সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্কের চুক্তিকে ইরান কীভাবে দেখছে

গত শুক্রবার তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের নেতারা সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন। ৭ আগস্ট, ২০২৬ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরব ও পাকিস্তান সম্প্রতি তাদের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ করে এতে তুরস্ককে যুক্ত করেছে। ত্রিপক্ষীয় এ চুক্তির মধ্য দিয়ে নতুন একটি নিরাপত্তাকাঠামোর উত্থান ঘটছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন এক সময়ে এই চুক্তি হলো, যখন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো চূড়ান্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি।

গত শুক্রবার সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে ত্রিদেশীয় ওই প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের কোনো পক্ষ সশস্ত্র হামলা চালালে সেটিকে তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা শুরু করার পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পর এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই হামলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সংঘাত দ্রুত উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচলও ব্যাহত হয়।

চুক্তিটি যেন আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষকেই ক্ষুব্ধ না করে, সে ব্যাপারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক সতর্ক ছিল। তারা বলছে, বহু বছরের প্রচেষ্টা ও আলোচনার ফল হিসেবে এই চুক্তি হয়েছে।

তিন দেশ জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং এটি ইরান বা কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। একই সঙ্গে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান কোনো চুক্তিও এই চুক্তির কারণে বাতিল বা প্রতিস্থাপিত হবে না।

এ চুক্তি নিয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া অনেকটাই সংযত। ইরানি কর্মকর্তারা মূলত আঞ্চলিক ও মুসলিম দেশগুলোর সহযোগিতা এবং তাঁদের দৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে আসার বিষয়টি নিয়ে কথা বলছেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে গত শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত শুক্রবার বলেন, মুসলিমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ‘আমরা বাইরের ক্ষতিকর শক্তিগুলোর যেকোনো চ্যালেঞ্জকে সরাসরি মোকাবিলা করতে পারব’।

চুক্তিটি সই হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দেন আরাগচি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘এখন শুধু নিজেদের ওপর নির্ভর করার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্বকে গ্রহণ করার সময়।’ তবে ওই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বিষয়ে তিনি সরাসরি কিছু উল্লেখ করেননি।

দীর্ঘ মেয়াদে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু কারণ অবশ্যই আছে বলে মনে করেন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি–সংক্রান্ত গবেষক ও বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজি।

ক্লিংজেনডেল ইনস্টিটিউটের এই বিশ্লেষক আল–জাজিরাকে বলেন, ‘চুক্তির সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কয়েক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের এবং প্রতিবেশী ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে।’

আজিজির মতে, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে শুধু সৌদি আরবের প্রতিরোধক্ষমতা বেড়ে যাওয়াই নয়, আরও কিছু বিষয় নিয়ে উদ্বেগে আছে তেহরান। তাদের উদ্বেগের অন্য জায়গাগুলো হলো—ভবিষ্যতে এই চুক্তির আওতায় ইরানের ওপর ইয়েমেন ও ইরাকের সমন্বিত চাপ তৈরি করা হতে পারে। এমনকি তুরস্ক ও পাকিস্তানের মাধ্যমেও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা হতে পারে।

গতকাল রোববার হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের জিজানে সৌদি আরামকোর মালিকানাধীন একটি তেল শোধনাগারে আরেকটি সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরব বলেছে, আগুন নেভানো হয়েছে এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে আগুনের কারণ কী ছিল, সে বিষয়ে তারা কিছু বলেনি।

ইয়েমেনে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় লোহিত সাগরের আল-মাখা বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এটি সৌদি-সমর্থিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন। কর্মকর্তারা বলেছেন, হামলায় অন্তত ৭ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। বন্দরের অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

হুতিরা বলেছে, তারা অস্ত্রের গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

‘শক্তিশালী জোট’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান-সৌদি আরব-তুরস্কের চুক্তি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে গত শনিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তেহরানের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় ও আইনবিষয়ক মহাপরিচালক হোসেইন নুশাবাদি সরকারসংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা আইএসএনএ-কে বলেন, মন্ত্রণালয় মূলত অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি উপস্থিতি কমে আসার প্রেক্ষাপটেই এই চুক্তিকে দেখছে।

নুশাবাদি আরও বলেন, এই চুক্তিকে পশ্চিম এশিয়া ও পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা আধিপত্য ভেঙে পড়ার সূচনাপর্ব হিসেবে দেখা হচ্ছে।

‘চুক্তির সময়টা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, কয়েক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের মধ্যে সৌদি আরব ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিদের এবং প্রতিবেশী ইরাকে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার মুখে পড়েছে।’
হামিদরেজা আজিজি, ক্লিংজেনডেল ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক

ওই কর্মকর্তা আগে ওমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একটি নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে ওঠার খুব বেশি দেরি নেই। এটি বাইরের শক্তিগুলোর চাপিয়ে দেওয়া পুরোনো ক্ষমতাকাঠামোকে সরিয়ে দেবে। এতে বর্তমান নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক ব্যবস্থার অবসান হবে এবং পশ্চিম এশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের এলাকা থেকেও বেরিয়ে আসবে।’

ওই কর্মকর্তা আগে ওমানে ইরানের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ভালি নাসর মনে করেন, এই মুহূর্তে এই চুক্তি তেহরানের জন্য কোনো হুমকি নয়। এ মুহূর্তে এগুলো সবই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-পরবর্তী নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ।’

ভালি নসর আরও বলেন, ‘এই চুক্তি ইরানকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি আব্রাহাম চুক্তির পাল্টা ভারসাম্য হিসেবে কাজ করছে।’ তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগের কথা বলেছেন। সম্প্রতি ট্রাম্প এটিকে সৌদি আরবের চাওয়া বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তির সঙ্গে যুক্ত করেছেন।’

কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহরান কামরাভাও এ বিষয়ে একমত। তিনি বলেন, ইরানের নীতিনির্ধারকেরা এই মুহূর্তে এই চুক্তিকে বড় কোনো হুমকি হিসেবে দেখছেন না। বিশেষ করে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পাকিস্তান ও তুরস্ক—দুই দেশের সঙ্গেই ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে।

কামরাভা আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি খুব নতুন কিছু নয়। অন্তত এখন পর্যন্ত এর প্রতীকী গুরুত্বের বাইরে তেমন কার্যকর প্রভাবও নেই। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, সম্প্রতি সৌদি আরবে হুতিদের হামলা হলেও তুরস্ক বা পাকিস্তান—কোনো দেশই ইয়েমেনে সৌদি আরবের যুদ্ধে জড়াতে চাইবে না।’

চুক্তিটি যেন আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোনো পক্ষকেই ক্ষুব্ধ না করে, সে ব্যাপারে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক সতর্ক ছিল। তারা বলছে, বহু বছরের প্রচেষ্টা ও আলোচনার ফল হিসেবে এই চুক্তি হয়েছে। তিন দেশ জোর দিয়ে বলেছে, চুক্তিতে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়নি এবং এটি ইরান বা কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

তবে ইরানের সবাই এই চুক্তি নিয়ে খুশি নয়। দেশটির কিছু কট্টরপন্থী আইনপ্রণেতা ও গণমাধ্যমের আশঙ্কা, শেষ পর্যন্ত এই চুক্তি তেহরান-সমর্থিত আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ‘প্রতিরোধ জোটের’ বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোর প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের বিশ্বাসযোগ্যতাও কমে যেতে পারে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের সদস্য ইব্রাহিম আজিজি চুক্তিটিকে আরও কঠোর দৃষ্টিতে দেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আরব দেশগুলো শেষ পর্যন্ত বুঝতে পেরেছে, নিরাপত্তা আমদানি করা যায় না। এই অঞ্চলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এই অঞ্চলকেই গড়ে তুলতে হবে। তবে এখনো এর জন্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইব্রাহিম আজিজি আরও লেখেন, ‘সতর্কবার্তা: ভুল হিসাব–নিকাশ করাটা ঐতিহাসিক ভুল। ইরান প্রমাণ করেছে, প্রতিটি ভুলের মূল্য দিতে হয়। সামনে এগিয়ে যাওয়ার একমাত্র পথ হলো ভারসাম্য বজায় রাখা।’

কমিশনের আরেক সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে কাগজে-কলমে করা একটি চুক্তি সৌদি আরবকে নিরাপত্তা দিতে পারবে না। যেমন বছরের পর বছর শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করেও সৌদি আরব নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।’

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হওয়ার আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ৭ আগস্ট ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

ইরান কি বাদ পড়ে যাচ্ছে?

ক্লিংজেনডেল ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক হামিদরেজা আজিজির মতে, চুক্তিভুক্ত এই জোটকে ইরানবিরোধী জোটে পরিণত হতে না দেওয়াটাই এখন সম্ভবত তেহরানের একমাত্র লক্ষ্য। এ জন্য তিন দেশের সঙ্গেই ইরানকে আলাদাভাবে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

হামিদরেজা আজিজি মনে করেন, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের ওপরও জোর দিতে পারে। সেটি হলো—আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাইরের শক্তির হাতে নয়, বরং এই অঞ্চলের দেশগুলোর নিজেদের উদ্যোগেই নিশ্চিত করা উচিত।

আজিজি বলেন, ‘যদি ওই দেশগুলো মনে করে, এই জোট ইরান বা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তাদের কার্যকর সুরক্ষা দিচ্ছে, তাহলে তেহরানের এই জোটে যোগ দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যদি এই ব্যবস্থা শুধু একে অপরের ভারসাম্য রক্ষার জোট না থেকে বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তাকাঠামোয় পরিণত হয়, তাহলে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে দেখা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ভবিষ্যতে এই জোটে ইরানের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সেটি হতে হলে হরমুজ প্রণালি ও পুরো অঞ্চলজুড়ে হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ হতে হবে। অন্যদিকে, অদূর ভবিষ্যতে এই জোটে আরও কয়েকটি আরব দেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মিসরের নাম সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে কায়রোর জন্য এটি জটিল সিদ্ধান্ত হতে পারে।

চাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচি বিষয়ক পরিচালক সানাম ভাকিল বলেন, এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং সম্ভাবনা—দুটি বিষয়েরই প্রতিফলন ঘটেছে।

আল–জাজিরাকে ভাকিল বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা, ইসরায়েলের নীতিগত পরিবর্তনের চেষ্টা এবং ইরানের পাল্টা হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা আরও ঘনিষ্ঠ কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা গড়ে তুলতে একত্র হয়েছে।’