বিবৃতিতে এ দুই নারীকে এনএইচ এবং ইএম নামে উল্লেখ করা হয়েছে। মাসার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে যে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, তাকে সিআইএ, মোসাদ এবং অন্য পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা পরিচালিত পূর্বপরিকল্পিত অভিযান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে।

ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই দুই নারী সাংবাদিক বিদেশি গণমাধ্যমের প্রাথমিক সংবাদসূত্র। এতে অভিযোগ করা হয়, সাংবাদিক নিলুফার হামেদি কুর্দি তরুণী মাসা আমিনির পরিবারকে তাঁদের মেয়ের মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করেছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকা অবস্থায় মাসা আমিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। হামেদি হলেন প্রথম সাংবাদিক, যিনি ওই হাসপাতালে গিয়ে মাসার শারীরিক অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। তাঁর তোলা ছবিতে দেখা গেছে, কোমায় চলে যাওয়া ওই কুর্দি তরুণী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছেন এবং হাসপাতালের করিডরে স্বজনেরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আহাজারি করছেন। ছবিগুলো প্রকাশের পরই প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

আইআরজিসি এবং গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, সাকেজ শহরে মাসা আমিনির জানাজাস্থল থেকে খবর প্রচারের জন্য ইলাহি মোহাম্মদি বিদেশি এজেন্ট হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন।

ইলাহি মোহাম্মদিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর আটক করা হয়। তাঁর আইনজীবীরা বলেছেন, নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর ঘরের দরজা ভেঙে ফেলেছে এবং ফোন ও ল্যাপটপের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সরিয়ে নিয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিবৃতিটি ইরানি সংবাদ সংস্থাগুলোয় পাঠানো হয়। বিবৃতিটি নিয়ে ইরানের অন্য সাংবাদিকদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ইরানে ভিনদেশের সরকারের জন্য গুপ্তচরবৃত্তির সাজা মৃত্যুদণ্ড।

মাসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ৪০ জনের বেশি সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে। ইরানের হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সির (এইচআরএএনএ) পরিসংখ্যান বলছে, ছয় সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা ওই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।

রেজা (ছদ্মনাম) নামে ইরানি এক সাংবাদিক বলেন, ‘তারা অভিযোগ করেছে নিলুফার ও ইলাহি সিআইএ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। আমি এখন আর কোনো বিদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারব না। তারা আমাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আমাকে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করতে বলা হয়েছে। আমি আমার সেলফোনে বিদেশ থেকে আসা কল রিসিভ করেছি। তারা যদি আমার ফোনের রেকর্ডে নজরদারি চালায় এবং দেখে যে কেউ পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ফোন দিচ্ছে, এমনকি তিনি যদি বন্ধুও হন, তাহলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে।’

আফেরিন (ছদ্মনাম) নামে আরেক ইরানি সাংবাদিক বলেছেন, নিলুফার এবং ইলাহিকে গুপ্তচরবৃত্তির তকমা লাগানোর ঘটনাটি ইরানের গণমাধ্যমের ওপর সমন্বিত আক্রমণের অংশ। তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা এখন আর এক বিন্দুও সময় নেবে না। তারা জানে ইরানে আমার মতো মানুষ আছে যাদের বিদেশি বন্ধু এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। তারা এ বিবৃতির অপব্যবহার করবে এবং এর আওতায় আরও অনেককে গ্রেপ্তার করবে। আরও খারাপ কিছুও হতে পারে। গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে তারা নিজ দেশের নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ডও দিতে পারে।’