গাজা নগরীর উপকণ্ঠে ১৫০০ ভবন ধ্বংস, হামলায় ব্যবহার হচ্ছে ড্রোন–রোবট
ফিলিস্তিনের গাজায় নৃশংসতা বাড়িয়ে চলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। গাজা নগরী দখলের অভিযান শুরুর পর নগরীর উপকণ্ঠে আল-জেইতুন এলাকাতেই ১ হাজার ৫০০টির বেশি ভবন ধ্বংস করেছে তারা। গাজা সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল আজ বৃহস্পতিবার তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিক থেকে উপত্যকার উত্তরে গাজা নগরী দখলে স্থল অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। মাহমুদ বাসাল বলেন, ইসরায়েলের স্থল অভিযান শুরুর এক মাসের কম সময়ে জেইতুন এলাকার দক্ষিণে আর কোনো ভবন অবশিষ্ট নেই। এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে নির্মাণ যন্ত্র ব্যবহার করছে ইসরায়েল। কাজে লাগানো হচ্ছে বিস্ফোরক বহনকারী রোবট ও ড্রোন।
গাজা সিভিল ডিফেন্সের এই মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পদ্ধতিগত এই ধ্বংসযজ্ঞের মুখে জেইতুন এলাকার ৮০ শতাংশ বাসিন্দা গাজা নগরীর উত্তর ও পশ্চিম এলাকাগুলোতে পালিয়ে গেছেন। তবে সেখানে তাঁরা কত দিন থাকতে পারবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কারণ, বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আভিচাই আদ্রেয়ি বলেছেন, গাজা নগরীর পুরোটা খালি করতে হবে।
গাজা নগরীতে ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র উঠে এসেছে আল-জাজিরার ফ্যাক্ট চেকিং বিভাগ সানাদ-এর অনুসন্ধানেও। ৬ এপ্রিল থেকে আগস্টের শেষের দিক পর্যন্ত স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা ছবিতে দেখা গেছে, আল-জেইতুন, জাবালিয়া আল-বালাদ, তাল আল-জাতার ও জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরসহ গাজার নগরীর উপকণ্ঠে বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করেই মূলত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞের পাশাপাশি উপত্যকাটিতে নিহত হয়েছেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এ পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় সেখানে প্রায় ৬৩ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত ১ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি মানুষ।