সৌদি আরবে ইরানের হামলায় ৫টি মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান বাহিনীর পাঁচটি রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) উড়োজাহাজ ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় উড়োজাহাজগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি। বর্তমানে উড়োজাহাজগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। এই হামলায় কেউ নিহত হয়নি বলেও জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি।
ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কোনো দেশকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে না দেওয়ার কথা বলে আসছে রিয়াদ। এর মধ্যেই ইরানের হামলায় সৌদির বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ইরাকে একটি মার্কিন রিফুয়েলিং উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়। এতে উড়োজাহাজে থাকা ছয়জন ক্রুর সবাই নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) পরদিন বিষয়টি জানিয়ে দাবি করেছে, ‘শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে’ উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়নি। তবে ইরাকের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স নামের একটি গোষ্ঠী দাবি করেছে, তারা উড়োজাহাজটি ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকমের এক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় দুটি উড়োজাহাজ যুক্ত ছিল। এর মধ্যে একটি উড়োজাহাজ পশ্চিম ইরাকে বিধ্বস্ত হয়। দ্বিতীয়টি নিরাপদে অবতরণ করেছে। যদিও ইসরায়েলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো ছবি প্রকাশ করে জানায়, বেনগুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করা দ্বিতীয় উড়োজাহাজটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মিশনে মার্কিন বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ হলো এই কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার। এর প্রধান কাজ হলো আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহ করা। এর ফলে যুদ্ধবিমান, বোমারু বিমান ও নজরদারি উড়োজাহাজগুলো উড্ডয়নরত অবস্থাতেই জ্বালানি গ্রহণ করতে পারে। এই সক্ষমতার কারণে সামরিক উড়োজাহাজ ও যুদ্ধবিমানগুলো অবতরণ না করেই দীর্ঘ সময় আকাশে থাকতে পারে এবং তাদের অভিযানের পরিধিও অনেক বেড়ে যায়।
প্রায় ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে এই উড়োজাহাজ মার্কিন বিমানবাহিনীর আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বৈশ্বিক সামরিক অভিযানে সহায়তা দিচ্ছে। মার্কিন বাহিনীতে এ ধরনের প্রায় ৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে।