ইরানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে বিক্ষোভকারীদের আগুন, ‘কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের

মধ্য ইরানের ইসফাহানে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)’ ভবনে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরাছবি: এক্স থেকে নেওয়া

ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের জেরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও জোরালো হয়েছে। দেশজুড়ে চলা এ বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর দমন-পীড়নে অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে জানিয়েছে ফক্স নিউজ।

এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা হলে ইরানকে ‘কঠোর’ জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রাজধানী তেহরান ছাড়াও কোম, ইসফাহান, বন্দর আব্বাস ও বোজনুর্দ শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)’ ভবনে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। তবে দেশটিতে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর কড়াকড়ি থাকায় এ তথ্যের সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে ফক্স নিউজ বলেছে, আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত মানুষের সংখ্যা ৪৫ ছাড়িয়েছে।

ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি, তেহরানের প্রতিক্রিয়া

আজ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের নিশানা করে, তবে সেখানে হস্তক্ষেপের জন্য যুক্তরাষ্ট্র সব দিক থেকে প্রস্তুত রয়েছে।

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানি কর্তৃপক্ষ যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘খুব কঠোর’ হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুর ঘটনায় ইরানকে ‘খুব কঠোরভাবে আঘাত’ করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। নতুন ওই মন্তব্য তারই ধারাবাহিকতা। দেশটিতে চলমান সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, বেসামরিক নাগরিকসহ উভয় পক্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় মার্কিন হামলার পর ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যগুলো বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তেহরানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ছবি: এএফপি

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিপরীতে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না এবং আগে হামলার শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। তার নিরাপত্তা বা ভূখণ্ডে যেকোনো আঘাতকে ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।

তেহরান আরও জানিয়েছে, যেকোনো হামলা বা অব্যাহত শত্রুতামূলক আচরণের বিপরীতে তারা চূড়ান্ত ও সিদ্ধান্তমূলক জবাব দেবে।

আরও পড়ুন

আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া

গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরানের ‘অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের’ নিন্দা জানিয়েছে জার্মানি। বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের সঙ্গেও একাত্মতা প্রকাশ করেছে দেশটি।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিদেশি শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন ‘উসকানিদাতাকে’ গ্রেপ্তার ও বিপুল পরিমাণ চোরাচালান করা অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি দেশের অর্থনৈতিক দুর্দশার কথা স্বীকার করলেও এ দাঙ্গা উসকে দেওয়ার জন্য ‘বাইরের শক্তিকে’ দায়ী করেছেন।

আরও পড়ুন

ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৫

ইরানে আজ দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক সংস্থা। তেহরান ছাড়িয়ে বিক্ষোভ কোম শহর ও পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ায় তথ্যপ্রবাহ সীমিত হয়ে পড়েছে, যা জনমনে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারির বিপরীতে ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে। তেহরান বলেছে, তারা পাল্টা জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা রাখবে না এবং আগে হামলার শিকার হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না।

ইরানের একটি মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন নিহত হয়েছেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার (রিয়াল) মান ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার মতো অর্থনৈতিক সংকটের জেরে শুরু হওয়া এ আন্দোলনে রাস্তায় আগুন জ্বালানো, সরাসরি গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহারের চিত্র বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে।

বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী অস্ত্র ও কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন