ইরানে হত্যা বন্ধের আশ্বাস পাওয়ার কথা জানালেন ট্রাম্প, মৃত্যুদণ্ড দেবে না তেহরান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে বলে তিনি আশ্বাস পেয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের (বিক্ষোভকারীদের) কোনো পরিকল্পনা নেই।
গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ করা হয়েছে বলে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনাও স্থগিত করা হয়েছে।
ইরান ইস্যুতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে কাতারের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে কিছুসংখ্যক সেনা সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গতকাল ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ট্রাম্প।
তেহরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্পের এমন মন্তব্য ইরান ইস্যুতে তাঁর তুলনামূলক সংযত আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
এ সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, অপর পক্ষের (ইরান) ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পরিস্থিতির বাঁকবদলগুলো তিনি পর্যবেক্ষণ করবেন। তবে ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেননি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করবো।’ তিনি বলেন, ইরানের কাছ থেকে একটি ‘খুব ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে গতকাল একটি সাক্ষাৎকার দেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পরিকল্পনা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ফাঁসির কোনো পরিকল্পনা নেই।’
ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার মাইক হান্না বলেন, প্রেসিডেন্টের (ট্রাম্প) গতকাল বুধবারের এমন মন্তব্য ইরানের বিষয়ে তাঁর সুর নরম করার ইঙ্গিত দেয়।
এই সংবাদকর্মী বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে যে তিনি (ট্রাম্প) এখনো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন। তিনি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাছ থেকে ব্রিফ পেয়েছেন। তবে আমরা যেসব বক্তব্য (ট্রাম্পের) শুনলাম, তাতে পরিস্থিতি কিছুটা নমনীয় হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে বোঝা যাচ্ছে, ট্রাম্প সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসছেন, যেই হুমকি তিনি আগে থেকে দিয়ে আসছিলেন।’
২০২২ সালের পর সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে ইরানে। মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক দুরবস্থার প্রতিবাদে এ বিক্ষোভ শুরু হলেও দ্রুত তা রাজনৈতিক রূপ নেয়। গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ বিক্ষোভ এরই মধ্যে দেশটির বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
ইরানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২ হাজার ৫৭১–এ দাঁড়িয়েছে। তাঁদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ও ১২টি শিশু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি’ গতকাল ভোরে নিহত ব্যক্তির এ সংখ্যা জানায়।
বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিদেশ থেকে ইরানের বিক্ষোভের প্রকৃত চিত্র বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছে। যে কারণে হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিক্ষোভে ‘অস্থিরতা উসকে দেওয়ার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করছে ইরান সরকার।