যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি এরই মধ্যে সই হয়েছে। এবার দুই দেশ চুক্তির ‘দ্বিতীয় ধাপের’ দিকে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফ্রান্সে জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। আগামী শুক্রবার থেকে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরু হবে বলে জানিয়েছে তেহরানও।
প্রাথমিক চুক্তিতে সই হওয়ার বিষয়টি সোমবার নিশ্চিত করেন ট্রাম্প। এ নিয়ে যতটুকু তথ্য সামনে এসেছে সে অনুযায়ী, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার পর যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং জব্দ করা অর্থ ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হবে।
এই আলোচনা দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল হতে পারে—বিশ্লেষকদের এমন ধারণার পরও সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমরা চুক্তি সম্পন্ন করেছি। আর এটিকে সফল হতে হবে। এটি দ্বিতীয় ধাপের দিকে এগোচ্ছে। আর আমার মনে হয় এই ধাপটি তুলনামূলক সহজ হবে।’ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অর্থ বিনিয়োগ করবে না বলেও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
মঙ্গলবার চুক্তির পরবর্তী ধাপ নিয়ে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, পরমাণু কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা শুক্রবার শুরু হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সতর্ক করে তিনি এ-ও বলেন, ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালালে তা চুক্তি লঙ্ঘন হিসেবে ধরা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধ শুরু হয়। এর দুই দিন পর লেবাননেও হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় ছয় সপ্তাহ পর ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এখন তেহরানের ভাষ্য, প্রাথমিক চুক্তিতে লেবাননসহ সব সম্মুখসারিতে যুদ্ধ বন্ধের কথা রয়েছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচনায় ট্রাম্প
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হলেও লেবাননে ইসরায়েলের আগ্রাসনের কারণে এই চুক্তি কতটা আলোর মুখ দেখবে, তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরায়েলের এমন আচরণের কারণে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, লেবানন ইস্যুতে নেতানিয়াহুকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হতে হবে।
বিগত কয়েক মাসেও নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর ওপর হামলা চালিয়ে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তিতে পৌঁছানো আরও কঠিন করে তুলছেন নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকার। ট্রাম্প এ-ও বলেছেন, ‘আমি না থাকলে ইসরায়েলের কোনো অস্তিত্ব থাকত না; কারণ, আমি যা করেছি অন্য কোনো প্রেসিডেন্ট তা করতে রাজি ছিলেন না।’
নেতানিয়াহু অবশ্য ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধ এড়িয়ে চলার ব্যাপারে সতর্কতার পথ ধরেছেন। সোমবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এমন কিছু বিষয় আছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও আমি একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি না। ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষার ক্ষেত্রে আমার দায় রয়েছে। আর বিচক্ষণতার সঙ্গে আমাকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
‘সিরিয়া হিজবুল্লাহ নিয়ে ভালো কাজ করতে পারে’
মঙ্গলবার জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপের সময় সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার প্রসঙ্গও তোলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সিরিয়ায় বর্তমানে দায়িত্ব থাকা ব্যক্তি হিজবুল্লাহর ব্যাপারে খুবই দক্ষ। সশস্ত্র গোষ্ঠীটিকে মোকাবিলায় সিরিয়া হয়তো ইসরায়েলের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি ইসরায়েল পরামর্শ দিয়েছেন যে হিজবুল্লাহর বিষয়টি যেন আহমেদ আল-শারা সামাল দেন। কারণ, তিনি কাজটি আরও ভালোভাবে করতে পারবেন। ইসরায়েল অনেক দীর্ঘ সময় ধরে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এর ফলে অনেক বেশি মানুষ নিহত হচ্ছে।