তেল আবিবে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা ফ্লাইদুবাইয়ের

ফ্লাইদুবাইয়ের একটি উড়োজাহাজ। ইসরায়েলের তেল আবিবের কাছে বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েলের তেল আবিবে উড়োজাহাজ চলাচল সাময়িক বন্ধের ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ফ্লাইদুবাই। গত বুধবার তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজের ককপিটে পাইলটের ওপর সহকর্মীর হামলার ঘটনার পর এ ঘোষণা দেওয়া হলো।

ফ্লাইদুবাইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) গাইথ আল গাইথ গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুরোধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ রুটে (দুবাই–তেল আবিব) উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকবে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে গাইথ আল গাইথ বলেন, উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সহায়তা করা হচ্ছে। তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

বুধবারের ওই ঘটনার সময় ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড–১০৭৩ উড়োজাহাজটি দুবাই থেকে তেল আবিবে যাচ্ছিল। পরে জরুরি ভিত্তিতে সৌদি আরবের তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করানো হয়।

গাইথ আল গাইথ বলেন, ওই উড়োজাহাজের সব যাত্রী ও ক্রু নিরাপদে আছেন। তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ককপিটে হামলাকারীকে প্রতিহত করা, উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং নিরাপদে অবতরণ করানোয় সিইও গাইথ আল গাইথ ওই উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন ও অন্যান্য পাইলটকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় সহায়তা করা কেবিন ক্রু ও যাত্রীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

ঘটনার সময় দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপ নেওয়ায় সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষকেও ধন্যবাদ জানান ফ্লাইদুবাইয়ের সিইও। যাত্রী ও ক্রুদের নিজ গন্তব্যে ফিরিয়ে নিতে সহায়তার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতিও ধন্যবাদ জানান তিনি।

গাইথ আল গাইথ আরও জানান, এ ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নেতৃত্বে পরিচালিত এ তদন্তে ফ্লাইদুবাই সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে গাইথ বলেন, ফ্লাইট এফজেড১০৭৩-এ কী ঘটেছিল, তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনতে তদন্তের প্রক্রিয়া এগিয়ে যেতে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ফ্লাইদুবাই জানিয়েছে, ককপিটে একটি কলহের ঘটনা ঘটেছিল। পরে ক্রুরা উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেন। এরপর সেটিকে নিরাপদে সৌদি আরবে নিয়ে যাওয়া হয়।

আরও পড়ুন

ওই ঘটনার পর ক্যাপ্টেন ও ফার্স্ট অফিসার—দুজনই আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় বলেও জানায় ফ্লাইদুবাই।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ককপিটের ওই ঘটনার পেছনে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের’ কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না; হলে এর পেছনে কে জড়িত—এসব নিয়েও বিশদ তদন্ত করা হবে।

আরও পড়ুন