জিও টিভির খবরে বলা হয়েছে, লাহোরের শওকত খানুম হাসপাতাল থেকেই গতকাল নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন ইমরান খান। গতকাল সন্ধ্যায় পিটিআইয়ের অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে তাঁর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।
শাহবাজ সরকারকে আক্রমণ করে ইমরান খান বলেন, ‘আমি পারভেজ মোশাররফের সামরিক শাসন দেখেছি। সেই সময় আমাকে জেলে যেতে হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়ের শাসনের চেয়ে আজকের শাসন ভয়ংকর।’

তাঁকে হত্যার পরিকল্পনার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, ‘আমি সাড়ে তিন বছর সরকারে ছিলাম। আমাকে পছন্দ করেন, এমন অনেকে এখনো সরকারি চাকরি করেন। অনেকে গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করেন। তাঁরা হত্যা পরিকল্পনা সম্পর্কে আমাকে জানিয়েছেন।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা আমাকে হত্যার জন্য আগেই পরিকল্পনা করেছিল। আমাকে হত্যার জন্য চারজন মিলে বৈঠক করেছিল। আমাকে হত্যার আশঙ্কার কথা জানিয়ে ২৪ সেপ্টেম্বরের সমাবেশে বলেছিলাম।’ এরপর ২৪ সেপ্টেম্বরের সেই সমাবেশের ভিডিও প্রচার করা হয়।

ইমরান খান বলেন, ‘২৪ সেপ্টেম্বর আমি যে চারজনের হামলার পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম, ওয়াজিরাবাদে হামলায় তার মিল নেই। এই চারজন কিন্তু ওয়াজিরাবাদের হামলার সঙ্গে জড়িত তিনজন থেকে আলাদা।’

ওয়াজিরাবাদের হামলার জন্য প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ও আইএসআইয়ে কর্মরত মেজর জেনারেল ফয়সাল নাসিরকে দায়ী করেন করে ইমরান বলেন, রানা সানাউল্লাহ অর্থের জন্য যা ইচ্ছা তাই করতেন পারেন। শাহবাজ শরিফের বিরুদ্ধে আগে থেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার বিচার চেয়ে সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার উদ্দেশে ইমরান খান বলেন, সেনাবাহিনী কি আইনের ঊর্ধ্বে? সেনাবাহিনীতে এমন অনেকে বসে আছেন, যাঁরা সাধারণ মানুষকে গরু–ছাগল ভাবতে শুরু করেছেন। মেজর জেনারেল ফয়সালের কি বিচার হবে?

ওয়াজিরাবাদে হামলার বিবরণ তুলে ধরতে গিয়ে ইমরান খান বলেন, তাঁর ওপর আসলে দুজন গুলি চালিয়েছেন। একজন সামনে থেকে, অন্যজন পাশ থেকে গুলি চালিয়েছেন। সামনের ব্যক্তির গুলি তাঁকে আঘাত করলে তিনি ঝুঁকে গেলে পাশ থেকে চালানো ওই বন্দুকধারীর গুলি মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়।

পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে ইমরান খান বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করুন। পাকিস্তানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে ইরানের মতো বিপ্লব হবে।