মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আজ অবধি অজানা কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই গুরুতর ত্রুটির পরিপ্রেক্ষিতে কর আইনের লঙ্ঘন, কেন্দ্রীয় রাজস্ব বোর্ডের (এফবিআর) তথ্য হাতিয়ে নেওয়া ও অর্পিত দায়িত্ব ভঙ্গের বিষয়টি তদন্তে ব্যক্তিগতভাবে নেতৃত্ব দিতে প্রধানমন্ত্রীর রাজস্ববিষয়ক বিশেষ সহকারী তারিক মাহমুদ পাশাকে নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ফ্যাক্টফোকাস নিজেদের ‘পাকিস্তানভিত্তিক ডিজিটাল মিডিয়া’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছে। তারা ডেটা-নির্ভর অনুসন্ধানী সংবাদ প্রতিবেদন নিয়ে কাজ করে আসছে বলে সংবাদ প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে।

অতীতে এই ওয়েবসাইট পাকিস্তানের কয়েকজন রাজনীতিক ও অন্যান্য খাতের ‘তহবিল তছরুপ’ নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান ও সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল পারভেজ মোশাররফ।

২০২০ সালে এই ওয়েবসাইট অফশোর কোম্পানিতে চীন-পাকিস্তান ইকোনমিক করিডর অথোরিটির সাবেক চেয়ারম্যান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আসিম সালিম বাজওয়া ও তাঁর পরিবারের কথিত সম্পদ ও ব্যবসা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

গত বছর ওয়েবসাইটটি দাবি করেছিল, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও তাঁর মেয়ে মরিয়াম নওয়াজকে দোষী সাব্যস্ত করতে সাবেক প্রধান বিচারপতি সাকিব নিসার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন একটি অডিও তারা পেয়েছে।

সেনাপ্রধান বাজওয়ার পরিবারের কথিত কর নথি–সম্পর্কিত ফ্যাক্টফোকাসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী পাকিস্তান এবং পাকিস্তানের বাইরে মিলিয়ে সেনাপ্রধানের জ্ঞাত সম্পদ ও ব্যবসার পরিমাণ ১ হাজার ২৭০ কোটি রুপি।

প্রতিবেদনে ২০১৩ থেকে ২০২১ সাল নাগাদ জেনারেল বাজওয়া ও তাঁর পরিবারের জমা দেওয়া কথিত সম্পদের তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ২০১৬ থেকে ৬ বছরে জেনারেল বাজওয়ার স্ত্রী আয়েশা আমজাদের (ঘোষিত ও জ্ঞাত) সম্পদের পরিমাণ শূন্য থেকে ২২০ কোটি রুপিতে গিয়ে ঠেকেছে। এতে বলা হয়, এই সম্পদের মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে তাঁর স্বামীকে দেওয়া আবাসিক প্লট, বাণিজ্যিক প্লট ও বাড়িগুলো হিসাবে ধরা হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, জেনারেল বাজওয়ার পুত্রবধূ মাহনুর সাবিরের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ২০১৮ সালের অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ছিল শূন্য। পরে ২০১৮ সালের ২ নভেম্বর তা ১ হাজার ২৭১ মিলিয়ন (প্রায় ১২৭ কোটি) রুপিতে গিয়ে দাঁড়ায়। মাহনুরের বোন হামনা নাসিরের সম্পদ ২০১৬ সালে ছিল শূন্য, যা পরের বছর ‘কয়েক শ’ রুপিতে গিয়ে ঠেকে।

সেনাপ্রধানের বেয়াই সাবির হামিদের ২০১৩ সালের কর রিটার্ন ছিল ১০ লাখ রুপিরও কম। আসছে বছরগুলোতে তিনিও শতকোটি টাকার মালিক হতে যাচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।

ফ্যাক্টফোকাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজওয়ার দুই ছেলের সম্পদের তথ্য পেতে তারা সমর্থ হয়নি। সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে, প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার পর তাদের ওয়েবসাইটে পাঠকদের প্রবেশ ‘বিঘ্নিত’ হয়। তাদের ওয়েবসাইটটি ‘বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে’ বলেও সংবাদমাধ্যমটি দাবি করেছে।