একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, তিনি এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চান, যা পাকিস্তানের মানুষ সাধারণত এড়িয়ে যান। আর বিষয়টি হলো ১৯৭১ সালে সাবেক পূর্ব পাকিস্তানে (বাংলাদেশ) সেনাদের (পশ্চিম পাকিস্তানের) আত্মসমর্পণ।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, ‘আমি একটা তথ্য সংশোধন করে দিতে চাই। প্রথমত, পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) হাতছাড়া হওয়া সামরিক নয়, ছিল রাজনৈতিক ব্যর্থতা। লড়াইরত সেনার সংখ্যা ৯২ হাজার ছিল না, বরং এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৪ হাজার। বাকিরা ছিলেন সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের লোকজন।’

কামার জাভেদ বাজওয়া বলেন, এই ৩৪ হাজার সেনা ভারতীয় সেনাবাহিনীর আড়াই লাখ সেনা এবং মুক্তিবাহিনীর প্রশিক্ষিত ২ লাখ যোদ্ধার বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাঁরা সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন এবং নজিরবিহীন ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন।

পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, পূর্ব পাকিস্তানে লড়াই করা সেনাদের এ ত্যাগ দেশে স্বীকৃতি পায়নি, যা ছিল মহা অন্যায়।

অনুষ্ঠানে জেনারেল বাজওয়া গত সাত দশকে রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ হস্তক্ষেপকে তিনি ‘অসাংবিধানিক’ বলেও মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে ভুল করা ও দাম্ভিক আচরণের জন্য রাজনীতিকদেরও সমালোচনা করেন বিদায়ী সেনাপ্রধান।

পাকিস্তান সেনাপ্রধান বলেন, গত ৭০ বছরে বিভিন্নভাবে ‘রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ’ করার কারণে প্রায়ই সেনাবাহিনীর সমালোচনা করা হয়। এ হস্তক্ষেপ ছিল ‘অসাংবিধানিক’।

সেনাপ্রধান আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ গত বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর সামরিক বাহিনী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে এবং রাজনীতি থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়।

জেনারেল বাজওয়া বলেন, ‘আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা এ সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে মেনে চলছি এবং তা অব্যাহত রাখব।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের ভুলের কারণে দেশ সমস্যার মধ্যে পড়েছে। এসব ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়াটা জরুরি।