গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের বরাতে ডন বলছে, রেকর্ড বৃষ্টি ও হিমবাহ গলে সৃষ্ট নজিরবিহীন বন্যায় দেড় হাজার মানুষ মারা গেছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। ঘরবাড়ি, যানবাহন, শস্য ও গবাদিপশু মিলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন হাজার কোটি ডলার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অতি ভারী বর্ষণের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব খতিয়ে দেখতে বিজ্ঞানীরা আবহাওয়ার তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখেছেন। তাঁরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনই সম্ভবত সিন্ধু ও বেলুচিস্তান প্রদেশে পাঁচ দিনের বৃষ্টির পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছিল।

গবেষণা বলছে, বর্তমান জলবায়ু পরিস্থিতিতে যেকোনো বছরে এ ধরনের ঘটনা ঘটার প্রায় ১ শতাংশ সম্ভাবনা আছে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন না হলে বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা অনেক কম ছিল। এর মানে জলবায়ু পরিবর্তন অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে গবেষকেরা জোর দিয়ে বলেছেন, ঐতিহাসিকভাবে পাকিস্তানে মৌসুমি বৃষ্টির পরিমাণের ক্ষেত্রে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। ফলে পুরো ৬০ দিনের বৃষ্টির পরিমাণের ক্ষেত্রে মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব কতটুকু, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

default-image

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রানথাম ইনস্টিটিউটের জলবায়ুবিজ্ঞানের শিক্ষক ফ্রেডরিক ওটো বলেছেন, পাকিস্তানের ঐতিহাসিক নথিপত্রের দেখা যায়, মানুষ বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত করা শুরু করার পর থেকে এ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা এই সপ্তাহে বলেছে, পাকিস্তানের মতো গত ৫০ বছরে বিশ্বে আবহাওয়া-সম্পর্কিত দুর্যোগ পাঁচ গুণ বেড়েছে। এতে গড়ে প্রতিদিন ১১৫ জন প্রাণ হারাচ্ছে।

পাকিস্তান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন