আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনার
মেক্সিকোর শীর্ষ মাদক সম্রাট কারা, কীভাবে তাঁদের গ্রেপ্তার বা হত্যা করা হয়েছিল
মেক্সিকোর সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক এক অভিযানে দেশটির মাদক সম্রাট নেমেসিও ওসেগুয়েরা নিহত হয়েছেন। ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত ওসেগুয়েরা কুখ্যাত মাদক চক্র জালিস্কো নিউ জেনারেশনের (সিজেএনজি) নেতা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মেক্সিকোতে সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে।
মেক্সিকোর সেনাবাহিনী বলেছে, গত রোববার পশ্চিমাঞ্চলীয় জালিস্কো রাজ্যের তাপালপা শহরে সেনাদের সঙ্গে সংঘর্ষে ওসেগুয়েরা আহত হন। তাঁকে মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
মেক্সিকোতে নিহত বা গ্রেপ্তার হওয়া মাদক সম্রাটদের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন ওসেগুয়েরা। তাঁর আগেও বিভিন্ন সময়ে অনেক মাদক সম্রাট গ্রেপ্তার বা নিহত হয়েছেন। তেমন কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক—
জুলাই ২০২৪
মেক্সিকোর মাদক ব্যবসায়ী ইসমায়েল ‘এল মায়ো’ জাম্বাদা গার্সিয়াকে টেক্সাসের এল পাসো শহরের কাছে একটি বিমানঘাঁটি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর মাদক চক্র সিনালোয়ার অংশীদার ও মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের ছেলে হোয়াকিন গুজমান লোপেজ সঙ্গে ছিলেন।
জাম্বাদা পরে দাবি করেন, লোপেজ তাঁকে অপহরণ করে মার্কিন এজেন্টদের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। তবে গুজমান পরিবারের একজন আইনজীবীর দাবি, দীর্ঘ আলোচনার পর স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন জাম্বাদা।
জানুয়ারি ২০২৩
এল চাপোর আরেক ছেলে ওভিদিও গুজমান লোপেজকে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনালোয়া রাজ্যের রাজধানী কুলিয়াকান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এর আগে ২০১৯ সালের অক্টোবরেও ওভিদিও গুজমানকে অল্প সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তাঁর চক্রের প্রতিক্রিয়ায় রক্তপাত এড়াতে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদর তাঁকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন।
জুলাই ২০২২
মেক্সিকোর নৌবাহিনী মাদক সম্রাট রাফায়েল কারো কুইনতেরোকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়। তিনি ১৯৮৫ সালে এক মার্কিন মাদকবিরোধী এজেন্টকে অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন তিনি।
জুলাই ২০১৯
মেক্সিকোর কুখ্যাত মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমান এক নৃশংস অপরাধ চক্র পরিচালনার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। ওই চক্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচারের অভিযোগ আছে। এল চাপোকে দোষী সাব্যস্ত করে যাজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি ২০১৫
মেক্সিকোর পুলিশের শীর্ষ অপরাধীদের তালিকায় মাদক সম্রাট সারভান্দো ‘লা তুতা’–এর নাম ছিল। ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে গোমেজকে মেক্সিকান ফেডারেল পুলিশ গ্রেপ্তার করে।
ফেব্রুয়ারি ২০১৪
মেক্সিকো ও মার্কিন কর্মকর্তারা সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন শহর মাজাতলান থেকে মাদক সম্রাট হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৫ সালের জুলাইয়ে টলুকার কাছে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার থেকে পালিয়ে যান ‘এল চাপো’। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার করা হয়।
জুলাই ২০১৩
উত্তর মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ ‘লস জেটাস’ নামের মাদক চক্রের নেতা মিগুয়েল অ্যাঞ্জেল ত্রেভিনো মোরালেসকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ‘জেড ফর্টি’ নামে পরিচিত।
অক্টোবর ২০১২
মেক্সিকান মেরিন বাহিনীর অভিযানে লস জেটাস মাদক চক্রের প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা হেরিবের্তো লাজকানো নিহত হন। তিনি ‘এল লাজকা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
অক্টোবর ২০১২
মেক্সিকোর মেরিন বাহিনী জেটাসের আঞ্চলিক নেতা সালভাদর আলফোনসো মার্তিনেজ এসকোবেদোকে গ্রেপ্তার করে।
সেপ্টেম্বর ২০১২
জেটাসের নেতা ইভান ভেলাসকেজ কাবালেরোকে মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলীয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ‘এল তালিবান’ বা ‘জেড–ফিফটি’ নামে পরিচিত।
সেপ্টেম্বর ২০১২
মেক্সিকান মেরিন বাহিনী গালফ চক্রের সন্দেহভাজন শীর্ষ নেতা হোর্হে এদুয়ার্দো কোস্তিয়া সানচেজকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ‘এল কস’ নামে পরিচিত। তাঁকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মার্কিন কর্তৃপক্ষ ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।
ডিসেম্বর ২০১০
লা ফামিলিয়া মাদক চক্রের নেতা নাজারিও মোরেনো গনজালেস মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।। তিনি ‘দ্য ক্রেজিয়েস্ট ওয়ান’ নামে পরিচিত ছিলেন।
নভেম্বর ২০১০
গালফ চক্রের নেতা এজেকিয়েল কার্দেনাস মেক্সিকোর নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। তিনি ‘টনি টরমান্টা’ নামে পরিচিত ছিলেন।
আগস্ট ২০১০
বেলত্রান লেইভা চক্রের নেতা এদগার ভালদেজ ভিয়ারেয়ালকে মেক্সিকো সিটির কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ‘লা বার্বি’ নামে পরিচিত।
জুলাই ২০১০
গুয়াদালাহারার কাছে জাপোপান শহরের একটি বাড়িতে মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর অভিযানে সিনালোয়া চক্রের শীর্ষ নেতা ইগনাসিও কোরোনেল ভিয়ারেয়াল নিহত হন। তিনি ‘নাচো’ নামে পরিচিত ছিলেন।
ডিসেম্বর ২০০৯
কুয়েরনাভাকায় মেক্সিকোর মেরিন বাহিনীর অভিযানে বেলত্রান লেইভা চক্রের নেতা আরতুরো বেলত্রান লেইভা নিহত হন।