মাদুরো-পরবর্তী ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় ছিলেন না মাচাদো: কাতারি সূত্র
যুক্তরাষ্ট্র গত জানুয়ারিতে পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার সে সময়ের প্রেসিডেন্ট নিকোলো মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায়। তবে এ অভিযানের কয়েক মাস আগে থেকেই কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে আলোচনা চলছিল।
মাদুরো ক্ষমতা ছাড়লে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তা নিয়েই এসব আলোচনা হয়েছিল।
তবে ওই আলোচনায় ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোর কোনো ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়নি বলে সিএনএনকে জানিয়েছে কাতারের একটি সূত্র।
সূত্রটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা ভেনেজুয়েলার কোনো কর্মকর্তাই মাদুরো-পরবর্তী ক্ষমতা হস্তান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাচাদোকে বিবেচনায় রাখেননি। অথচ ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছিলেন মাচাদো। তিনি মাদুরো সরকারের কঠোর সমালোচক ছিলেন।
মাদুরোকে আটক করার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলায় নেতৃত্ব দেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় জনসমর্থন মাচাদোর নেই বলে তিনি মনে করেন।
এর কয়েক সপ্তাহ পর মাচাদো হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁকে নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি উপহার দেন। পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, (এরপরও) মাচাদোর নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান বদলায়নি।
তবে সে সময় মাচাদোর উপদেষ্টা ডেভিড স্মোলানস্কি দাবি করেছিলেন, মাচাদো ‘অবিশ্বাস্য জনসমর্থন’ পেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার প্রায় সব মানুষের ‘সমর্থন’ তাঁর পক্ষে রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন মাচাদোর বদলে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে দেয়।
কাতারি সূত্রটি জানিয়েছে, গত বছর কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার আলাপ–আলোচনায় রদ্রিগেজও যুক্ত ছিলেন।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিএনএন।
সূত্রটি বলেছে, আলোচনায় ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টিও ছিল। ২০২৪ সালে দেলসি রদ্রিগেজ কয়েকবার কাতার সফর করেন এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল–থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওয়াশিংটন ও কারাকাস—দুই পক্ষের অনুরোধেই কাতার মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে।
এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছে কাতার। জো বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রথম দিকের আলোচনাগুলো মূলত বন্দিবিনিময় ও ভেনেজুয়েলায় আটক মার্কিন নাগরিকদের মুক্তি ঘিরে ছিল।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলাও প্রকাশ্যে কাতারকে ধন্যবাদ জানায়। জীবিত থাকার প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে কাতার ভূমিকা রেখেছিল বলে জানানো হয়।
কাতারি সূত্রটি আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অনুরোধে কাতারে একটি অস্থায়ী ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছিল। সেখানে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির মুনাফা জমা রাখা হতো। তবে পরে হিসাবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তুলে নিয়ে যায়। তবে অভিযানের বিষয়ে আগাম কিছু জানত না কাতার।
বর্তমানে মাদুরো ও ফ্লোরেস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন আটক কেন্দ্রে বন্দী রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র–সংক্রান্ত অভিযোগে বিচার চলছে। দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
মামলার কার্যক্রম ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সম্প্রতি কয়েক সপ্তাহের বিলম্বের পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারকে ওই দম্পতির আইনি খরচ বহনের অনুমতি দিয়েছে।