জলবায়ু–সংকটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ব্রাজিল তার অবস্থান ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত রয়েছে।’ বিশেষ করে আমাজন বন রক্ষায় ব্রাজিল কাজ করবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, বিভক্ত জাতিতে যুদ্ধের আবহে কেউ বাঁচতে চায় না।

শুধু ভোটার নয়, ব্রাজিলের ২১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের জন্য কাজ করবেন বলেন লুলা। নির্বাচনে ডানপন্থী নেতা জইর বলসোনারোকে পরাজিত করেছেন লুলা।

নির্বাচনে লুলা ৫০ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছেন। আর বলসোনারো পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ১ শতাংশ ভোট। কোপাকাবানা বারে ৪৪ বছরের সরকারি চাকরিজীবী কারোলিনা ফ্রেইও বলেন, ‘এই অনুভূতি বর্ণনা করার মতো নয়।’ তিনি বলেন, ‘লুলা লৈঙ্গিক সমতা, স্বাধীনতার প্রতীক। লুলা সবকিছুতে বদল আনতে পারবেন।’

ব্রাজিলজুড়ে লুলার সমর্থকেরা আনন্দে মেতে ওঠেন। সাও পাওলোতে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে উল্লাস করেন।

ম্যারি আলভেস সিলভা (৫৩) নামের অবসরপ্রাপ্ত একজন ব্যাংক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘আমি জিতেছি। এটা আমার জয়। অন্যদের মতো আমি আনন্দে কাঁদছি।’ তিনি আরও বলেন, আমাজন বনাঞ্চল ও আদিবাসীদের জন্য লুলার জেতা প্রয়োজন ছিল।

২০০৩ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট ছিলেন লুলা। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও নির্বাচনে জিতে তিনি রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়েছিলেন।

২ অক্টোবর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটে লুলা পান ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট। বলসোনারো পান ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় গড়ায়।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী জানুয়ারিতে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ব্রাজিলের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব নেবেন লুলা।