ভারতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা
অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটছে। এবার ভারতও একই ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়ে আলোচনা করছে সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নয়াদিল্লিতে আয়োজিত একটি বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলনে অশ্বিনী বৈষ্ণব এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ডিপফেক (প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ছবি) মোকাবিলায় আরও কঠোর আইন প্রয়োজন। সেই সঙ্গে আগামী দুই বছরে ভারতে এআই খাতে প্রায় ২০০ বিলিয়ন (২০ হাজার কোটি) ডলার বিনিয়োগের আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বর মাস থেকে টিকটক, ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের অ্যাকাউন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে। এটি অমান্য করলে চড়া জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। গত মাসে ফ্রান্সের পার্লামেন্টেও ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিল পাস হয়েছে। এটি এখন আইনে পরিণত হতে সিনেটে ভোটাভুটির অপেক্ষায় আছে।
ডিপফেক নিয়ে আমাদের আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন। এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের শিশুদের ও সমাজকে এসব ক্ষতি থেকে রক্ষা করা জরুরি।অশ্বিনী বৈষ্ণব, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে সাংবাদিকদের অশ্বিনী বলেন, ‘বয়সভিত্তিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি এখন অনেক দেশই গ্রহণ করছে। আমরা বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ডিপফেক ও বয়সভিত্তিক বিধিনিষেধ নিয়ে আলোচনা করছি। এ ক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কী হতে পারে, তা নিয়ে কথা চলছে।’
এর আগে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্য সরকার শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছিল। তবে অশ্বিনী বৈষ্ণবের মন্তব্যই প্রথম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিশ্বের জনবহুল এ দেশটিতে জাতীয়ভাবে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
গত সপ্তাহে ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংক্রান্ত নিয়ম আরও কঠোর করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে (আধেয়) স্পষ্ট লেবেল দিতে হবে এবং কর্তৃপক্ষের নির্দেশের তিন ঘণ্টার মধ্যে বিতর্কিত কনটেন্ট সরিয়ে নিতে হবে।
গত মাসে ফ্রান্সের পার্লামেন্টেও ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার বিল পাস হয়েছে। এটি এখন আইনে পরিণত হতে সিনেটে ভোটাভুটির অপেক্ষায় আছে।
অশ্বিনী বৈষ্ণব বলেন, ‘ডিপফেক নিয়ে আমাদের আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা প্রয়োজন। এ সমস্যা দিন দিন বাড়ছে। আমাদের শিশুদের ও সমাজকে এসব ক্ষতি থেকে রক্ষা করা জরুরি।’