টেসলার প্রধান নির্বাহী মাস্ক আরও বলেন, ‘বার্লিন ও অস্টিনের কারখানাগুলো এখন বিশাল টাকার চুল্লি। এটি যেন বিশাল গর্জন করছে। এটা যেন আগুনে টাকা পোড়ানোর শব্দ।’

যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির এই দুটি কারখানা থেকে কোটি কোটি ডলারের লোকসানের তথ্য জানিয়ে মাস্ক বলেন, খরচ ব্যাপক কিন্তু সেখান থেকে আয় নেই। গিগাফ্যাক্টরি নামের এ কারখানা বছরের শুরুতে চালু হলেও এখান থেকে এখনো উৎপাদন বাড়েনি। টেক্সাসের অস্টিন কারখানা থেকে এ বছর খুব স্বল্প গাড়ি তৈরি সম্ভব হয়েছে। এর কারণ হচ্ছে ব্যাটারিসহ যন্ত্রাংশের স্বল্পতা। ব্যাটারি তৈরির বেশ কিছু যন্ত্রাংশ চীনের বন্দরে আটকে আছে।

করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চীনা কর্তৃপক্ষ এ বছরের শুরুতে বেশ কয়েকটি বড় শহরে লকডাউন দেয়। এ সময় সাংহাইয়ে মানুষের চলাফেরাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। মাস্ক বলেন, সাংহাইয়ে লকডাউন দেওয়ায় টেসলার জন্য কাজ চালিয়ে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানকার গিগাফ্যাক্টরিতে উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় টেসলা। আগামী মাসেও সেখানে অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজের জন্য দুই সপ্তাহ উৎপাদন বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এখান থেকে আরও বেশি উৎপাদন বাড়াতেই এ উন্নয়ন পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এখান থেকে সপ্তাহে ২২ হাজার গাড়ি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে গত সপ্তাহে টেসলা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সব গাড়ির দাম ৫ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে অ্যালুমিনিয়াম ও লিথিয়ামের মতো কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে সামনে এনেছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ সপ্তাহে মাস্ক বলেন, বৈশ্বিক কর্মীর ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ছাঁটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে তিনি মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে সমালোচনাও করেন।

এদিকে আরেক গাড়ি নির্মাতা জার্মানির প্রতিষ্ঠান বিএমডব্লিউ জানিয়েছে, চীনের শেনিয়াংয়ে তাদের ২২০ কোটি মার্কিন ডলার খরচে তৈরি নতুন কারখানায় আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এটা চীনে বিএমডব্লিউয়ের তৃতীয় কারখানা। এখান থেকে বছরে তাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৭ লাখ ইউনিট থেকে ৮ লাখ ৩০ হাজারে উন্নীত করছে প্রতিষ্ঠানটি।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন