default-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আমলে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য ভিসার আবেদন করেছিলেন আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনা। কিন্তু ট্রাম্পকে ‘অসম্মান’ করে কথা বলার জন্য তখন ম্যারাডোনাকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি।

ম্যারাডোনা ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে আসার জন্য ভিসার আবেদন করলে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে সাবেক স্ত্রীর মামলা মোকাবিলার জন্য এখানে আসার প্রয়োজন দেখা দিয়েছিলে ম্যারাডোনার।

ম্যারাডোনার আইনজীবী ম্যাটিয়াস মরলা আর্জেন্টিনার একটি টেলিভিশনের অনুষ্ঠানে তাঁর মক্কেলের যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা না পাওয়ার কারণ তুলে ধরেছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ম্যাটিয়াস মরলা জানিয়েছিলেন, ভিসা সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে কোনো মন্তব্য না করার জন্য তিনি ম্যারাডোনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন।

ভিসা আবেদনের সাক্ষাৎকারে ম্যারাডোনার কাছে দ্বিতীয় প্রশ্নই ছিল, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কে তোমার কী ধারণা?’

জবাবে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্পকে তিনি একজন ‘চিরোলিটা’ (পুতুল) মনে করেন। চিরোলিটা শব্দটি আর্জেন্টিনার আঞ্চলিক ভাষায় তুচ্ছার্থে ব্যবহার হয়ে থাকে।
তার আগে রাশিয়ান টিভি আরটির এক অনুষ্ঠানে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ট্রাম্প তাঁর কাছে এক কৌতুকের মতো। তাঁকে কার্টুনের মতো মনে হয়। যখনই তিনি টেলিভিশনে ট্রাম্পকে দেখেন, চ্যানেল বদল করে ফেলেন।

ম্যারাডোনাকে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়া হয়নি। তখন তাঁর আইনজীবী একাই ম্যারাডোনার সাবেক স্ত্রী ক্লোডিয়া ভিলাফেইনের সঙ্গে মামলা লড়ার জন্য মায়ামিতে আসেন।

ম্যারাডোনা তখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ফুজাইরাহ কোম্পানির সঙ্গে কাজ করছিলেন। সাবেক স্ত্রী ক্লোডিয়া ভিলাফেইনের সঙ্গে তাঁর ১৪ বছরের সংসার ভেঙে গিয়েছিল। ম্যারাডোনা অভিযোগ করেছিলেন, সাবেক স্ত্রী তাঁর অর্থ হাতিয়ে নিয়ে মায়ামিতে ৭টি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আগে থেকেই ম্যারাডোনার সম্পর্ক ভালো ছিল না। ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে মাদক গ্রহণের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ম্যারাডোনাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের প্রকাশ্য সমালোচক ছিলেন ম্যারাডোনা। ম্যারাডোনা ছিলেন লাতিন আমেরিকার বাম আন্দোলনের একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি ভেনেজুয়েলার বিপ্লবী নেতা হুগো চাভেজের অনুসারী ছিলেন।

ভেনেজুয়েলার নেতা হুগো চাভেজের মৃত্যুর পর তাঁর উত্তরসূরি হন নিকোলা মাদুরো। আমেরিকার কট্টর সমালোচক মাদুরোর পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন ম্যারাডোনা। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘আমরা আমৃত্যু হুগো চাভেজের অনুসারী। নিকোলা মাদুরো নির্দেশ দিলে আমি সৈনিকের পোশাক পরে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য প্রস্তুত।’

বিজ্ঞাপন

ইংরেজি, স্প্যানিশ ও ইতালিয়ান ভাষায় ম্যারাডোনা ‘বিপ্লব দীর্ঘজীবী হোক’ লিখে তাঁর বক্তব্য শেষ করেছিলেন।

আমেরিকায় বসবাসরত লাতিন আমেরিকান লোকজনসহ বিশাল জনগোষ্ঠীর কাছে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন ম্যারাডোনা। ২৫ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে লোকজনকে ম্যারাডোনার নাম উচ্চারণ করে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রে বহু লাতিন অভিবাসী তাদের ঘরের সামনে আর্জেন্টিনার পতাকা অর্ধনমিত রেখে ভালোবাসার নায়ক ম্যারাডোনার প্রতি তাদের ভালোবাসার জানান দিচ্ছে।
বুয়েনস এইরেসের নিজ বাড়িতে বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ৬০ বছর বয়সী আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি ফুটবলার ম্যারাডোনা।

মন্তব্য করুন