ইসরায়েলে হামাসের হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততার প্রত্যক্ষ প্রমাণ নেই: যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইরানের সমর্থনে হামাস আরও শক্তিশালী হয়েছে। তবে ইসরায়েলে হামাসের এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের জড়িত থাকার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র পায়নি।
গতকাল রোববার এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্লিঙ্কেন এসব কথা বলেন।
গত শনিবার সকালে ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র সংগঠন হামাস। গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসের এই পদক্ষেপের পাল্টা হিসেবে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে ইসরায়েল।
হামাস ও ইসরায়েল পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষে প্রায় ১ হাজার ১০০ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলে নিহত মানুষের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। আর গাজায় ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরান ও হামাসের মধ্যে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। প্রকৃতপক্ষে ইরানের কাছ থেকে বহু বছর ধরে পাওয়া সমর্থন ছাড়া হামাস হামাস হতো না। ইসরায়েলে হামাসের এই সুনির্দিষ্ট হামলায় ইরানের জড়িত থাকার বিষয়ে তাঁরা এখনো প্রত্যক্ষ কোনো প্রমাণ পাননি। তবে বহু বছর ধরে হামাসের প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট।
ব্লিঙ্কেন আরও বলেন, অন্যান্য দেশে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের জন্য, সন্ত্রাসবাদে সমর্থনের জন্য তাঁরা গত কয়েক বছর ধরে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অতীতে হামাসকে সমর্থনের জন্য তাঁরা ইরানের চার শতাধিক ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন।
ইসরায়েলে হামাসের হামলার পরিকল্পনায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তার বিষয়ে যে খবর বেরিয়েছে, তা অস্বীকার করেছে তেহরান। আজ সোমবার যুক্তরাজ্যের দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
তবে ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি গতকাল বলেছেন, তাঁর দেশ ফিলিস্তিনিদের আত্মরক্ষার অধিকারকে সমর্থন করে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এই অঞ্চলকে বিপন্ন করার জন্য ইসরায়েলকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।