বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন ঠেকাতে জাতীয় শক্তির সম্ভাব্য সব বিষয় ব্যবহার করবে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে চুক্তির শর্ত মেনে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন বাইডেন।

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ২০১৬ সালে ইসরায়েলকে রেকর্ড ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার চুক্তি করে ওয়াশিংটন। ১০ বছর মেয়াদি ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

জেরুজালেমে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইয়ার লাপিদ বলেন, ইরানের হুমকির বিষয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ইরানের ওপর বিশ্বশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমেই দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন প্রতিহত করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বাইডেন বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ থেকে ইরানকে ফেরাতে সবচেয়ে ভালো কৌশল হতে পারে কূটনীতি।

এদিকে বাইডেনের জেরুজালেম সফরের সময় বেথলেহেম ও রামাল্লায় বিক্ষোভ করেছেন ফিলিস্তিনিরা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা বাইডেনের ফিলিস্তিনি নীতির সমালোচনা করেন। বাইডেন-লাপিদের যৌথ বিবৃতিতে অঞ্চলটিতে শান্তি ফেরাতে দুই রাষ্ট্র গঠনকে সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। তবে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিলিস্তিন নীতি থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি বাইডেন। ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদের পরও জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস চালুর অনুমতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।

ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরে গত ১১ মে দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনে আল-জাজিরার সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহর হত্যার ঘটনা নিয়ে। ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। শিরিন ফিলিস্তিনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেরও নাগরিক ছিলেন। জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতেই শিরিনের মৃত্যু হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, শিরিনকে হত্যা করা ইসরায়েলি বাহিনীর উদ্দেশ্য ছিল না। এতে ক্ষুব্ধ হয় ফিলিস্তিনিরা।

বাইডেনের মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় শিরিনের পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। এ জন্য তাঁরা বাইডেনকে চিঠিও দিয়েছেন। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বুধবার শিরিনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাঁদের ওয়াশিংটনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন