বিবিসি এ নিয়ে মন্তব্যের জন্য টুইটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। দ্য গার্ডিয়ানের খবর বলছে, কর্মীদের পাঠানো মেইলে মাস্ক বলেন, সাফল্য পেতে টুইটারকে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে।

মাস্ক বলেন, কঠোর হওয়ার অর্থ হলো লম্বা সময় ধরে মন দিয়ে কাজ করতে হবে। শুধু ব্যতিক্রমী কাজ দেখাতে পারলেই প্রতিষ্ঠানে টিকে থাকা যাবে।

নতুন টুইটারের অংশ হতে চাইলে কর্মীদের আজ বৃহস্পতিবার ৫টার মধ্যে একটি লিংকে ক্লিক করতে বলা হয়েছে। মাস্ক বলেন, ‘আপনি যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন টুইটারকে সফল করতে প্রচেষ্টার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।’

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী এই ব্যক্তি মালিকানা নেওয়ার পর এর মধ্যেই টুইটারের অর্ধেক কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। মাস্ক বলেন, টুইটারে দিনে ৪০ লাখ ডলার লোকসান গুনছে। তাই ছাঁটাই ছাড়া প্রতিষ্ঠানের অন্য কোনো উপায় নেই।

মাস্ক কেনার পর এরই মধ্যে টুইটারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। টুইটারের মালিক ই–মেইলে কর্মীদের আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা সপ্তাহে অন্তত ৪০ ঘণ্টা কাজ করবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।

মাস্ক বলেন বৈশ্বিক মন্দার কারণে বিজ্ঞাপন থেকে টুইটারের রাজস্ব কমে যাচ্ছে। তবে কারিগরি বিনিয়োগকারী সারাহ কুনস্ট বলেছেন, আসল কারণ হলো মাস্ক দায়িত্ব নেওয়ার পরে টুইটার ঋণের মধ্যে পড়েছে। তাঁর আচরণের কারণে অনেক বিজ্ঞাপনদাতা এই প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমিয়েছেন।

কর্মীদের বেশি সময় ধরে কাজ করার জন্য মাস্কের পাঠানো ই–মেইল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সারাহ কুনস্ট। কর্মীদের কাজের সময় বদলে দিয়ে একতরফাভাবে এ রকম একটি চুক্তি কী মাস্ক এভাবে করতে পারেন।

শীর্ষ ধনকুবের এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক গত ২৭ অক্টোবর টুইটারের মালিকানা গ্রহণ করেন। তিনি ৪ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলারে টুইটার কেনেন।

টুইটার কেনার পর মাস্ক বলেছিলেন, কোম্পানির গ্রাহকদের জন্য ফ্রির জমানা শেষ। অর্থের বিনিময়ে ব্যবহারকারীরা চাইলেই নিজেদের অ্যাকাউন্টকে ‘ভেরিফায়েড’ করে নিতে পারবেন। এ জন্য প্রতি মাসে পকেট থেকে খসবে আট ডলার। তবে শুক্রবার টুইটার কর্তৃপক্ষ বলেছে, সে নিয়ম স্থগিত করেছে তারা।

গত মাসে টুইটারের মালিকানা গ্রহণ করেই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) পরাগ আগারওয়ালসহ কোম্পানির কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করেন মাস্ক। ইতিমধ্যে তিনি টুইটারের হাজারো কর্মীকে ছাঁটাই করেছেন। কর্মীদের কর্মঘণ্টা বাড়িয়ে ছুটি বন্ধ করেছেন। যাঁরা বাড়িতে বসে অফিস করছিলেন, তাঁদের অফিসে এসে কাজের নির্দেশ দিয়েছেন।