৪৫ বছর পর নিউইয়র্কের মেয়রের বাড়িতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট, মামদানির সঙ্গে ট্রাম্পের কী কথা হলো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল সোমবার বলেছেন, তিনি আশা করেন, জোহরান মামদানি নিউইয়র্কের ‘দারুণ মেয়র’ হবেন। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট মামদানি সম্পর্কে ট্রাম্পের এ উষ্ণ মন্তব্য অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক শোনাবে। কারণ, নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন প্রসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবলিকান মিত্ররা কয়েক মাস ধরে মামদানিকে ডেমোক্রেটিক পার্টির ‘কমিউনিজম’ গ্রহণের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরছেন।
অথচ, গ্রেসি ম্যানশনে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প ও মামদানির আচরণকে বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হয়েছে।
মামদানি বলেন, তাঁদের মধ্যে ‘বিস্তৃত পরিসরে’ আলোচনা হয়েছে। এতে সাশ্রয়ী আবাসন ও অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো উঠে এসেছে। তবে তাঁদের মধ্যে মতবিরোধের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মামদানি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্টকে বলেছি, এখানে লনে সংবাদমাধ্যমের সব সদস্যকে আমরা উপস্থিত রাখব। আর আমি এটিতেই বিশ্বাস করি।’
কেন তিনি ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, জানতে চাইলে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য ‘কিছু করতে পারেন’ এমন যে কারও সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে শত শত নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের দুজনেরই আগ্রহ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ট্রাম্প এ সময় লনে জড়ো হওয়া বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘বিষয়টি বেশ মজার। কারণ, তাঁরা বলেছিলেন, তাঁরা আমাকে বয়কট করবেন। কিন্তু তাঁরা কখনোই আমাকে বয়কট করেন না। তাই এ নিয়ে আমি খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলাম না।’
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ভাষণের আগে তাঁর গ্রেসি ম্যানশনে যাওয়া নিউইয়র্কের ৩৪ বছর বয়সী প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির প্রতি ট্রাম্পের আপাত সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ।
নদীতীরবর্তী ঐতিহাসিক এ বাসভবনে ৪৫ বছর আগে সর্বশেষ কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট পা রেখেছিলেন। তারপর এটাই ছিল সেখানে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। এর আগে ১৯৮১ সালে রোনাল্ড রিগ্যান সেখানে এড কোচের সঙ্গে বৈঠক করেন।
কেন তিনি ট্রাম্পকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, জানতে চাইলে মামদানি বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য ‘কিছু করতে পারেন’ এমন যে কারও সঙ্গে তিনি কাজ করতে প্রস্তুত। কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ডে শত শত নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের বিষয়ে তাঁদের দুজনেরই আগ্রহ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আমি অবশ্যই আশা করি, তিনি (জোহরান মামদানি) একজন দারুণ মেয়র হবেন। আপনাকে বুঝতে হবে, আমি নিউইয়র্কের জন্য যা ভালো, সেটাই চাই। আমি দেশের জন্য যা ভালো, সেটাই চাই...আমি চাই, তিনি একজন দারুণ মেয়র হোন।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেন, মামদানির মধ্যে ‘দারুণ সম্ভাবনা’ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
ট্রাম্প একজন ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদী নেতা, যিনি অভিবাসী ও মুসলিমদের নিশানা করে আসছেন। আর মামদানি একজন ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট, যিনি উগান্ডায় জন্মেছেন ও নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়র।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ‘নাস্তিক কমিউনিস্ট’ বলে আক্রমণ করছেন। তাঁর অভিযোগ, ডেমোক্র্যাটরা সীমান্ত ও কারাগার বিলুপ্ত করতে চায় এবং এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে বড় হুমকি তৈরি করছে।
তবে গতকাল মামদানি সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করি, তিনি একজন দারুণ মেয়র হবেন। আপনাকে বুঝতে হবে, আমি নিউইয়র্কের জন্য যা ভালো, সেটাই চাই। আমি দেশের জন্য যা ভালো, সেটাই চাই...আমি চাই, তিনি একজন দারুণ মেয়র হোন।’
আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এ ভাষণের আগে তাঁর গ্রেসি ম্যানশনে যাওয়া নিউইয়র্কের ৩৪ বছর বয়সী প্রথম মুসলিম মেয়র মামদানির প্রতি ট্রাম্পের আপাত সম্মানেরই বহিঃপ্রকাশ।
দুই নেতার শরীরী ভাষাতেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মামদানি বক্তৃতামঞ্চে কথা বলার সময় ট্রাম্প এক পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন শেষে তিনি সস্নেহে মামদানির বাহুতে দুবার হাত রাখেন।
সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প, মামদানি, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলস ও মামদানির চিফ অব স্টাফ এল বিসগার্ড-চার্চ উপস্থিত ছিলেন।
মামদানি বলেন, ‘নিউইয়র্কবাসীকে কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়, অভিবাসী নিউইয়র্কবাসীদের কীভাবে নিরাপদ রাখা যায়—এসব বিষয়ে আমি আমার দৃঢ় মতামত জানিয়েছি। পাশাপাশি, অভিবাসী নিউইয়র্কবাসী, বিশেষ করে হাইতিয়ান নিউইয়র্কবাসীরা শুধু আমাদের শহরের সামাজিক কাঠামোর জন্যই নয়, শহরের অর্থনীতির জন্যও কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও তুলে ধরেছি।’
মামদানি আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ও আমি, আমাদের মধ্যে থাকা নানা মতপার্থক্য নিয়ে সব সময়ই খোলামেলা আলোচনা করেছি।’