‘এসো, আমাকে ধরো, আমি অপেক্ষা করছি’, ট্রাম্পের উদ্দেশে আগস্টে বলেছিলেন মাদুরো
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো গত বছরের আগস্ট এক ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘এসো, আমাকে ধরো। আমি তার জন্য মিরাফ্লোরেসে (ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ) অপেক্ষা করব। দেরি কোরো না, কাপুরুষ।’
কিন্তু কে জানত, মাত্র কয়েক মাসের মাথায় মাদুরোর এ আহ্বান নির্মম সত্যে পরিণত হবে। স্থানীয় সময় শনিবার শেষ রাতে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের একটি সুরক্ষিত দুর্গত থেকে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন সেনারা তুলে নিয়ে যান।
এখন নিকোলা মাদুরোকে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের আটককেন্দ্র মেট্টোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে (এমডিসি) রাখা হয়েছে। এখন তাঁকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ম্যানহাটানের একটি ফেডারেল আদালতে যুক্তরাষ্ট্রে ‘মাদক পাচার’ ও ‘অবৈধ অস্ত্র’ রাখার অভিযোগে তাঁদের বিচার হবে।
ট্রাম্প প্রথম মেয়াদেও (২০১৭-২১) মাদুরোর বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। ২০২০ সালের মার্চে ম্যানহাটানের ফেডারেল আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘মাদক পাচার ও সন্ত্রাসবাদ’-এর অভিযোগ আনা হয়েছিল। তখনই মাদুরোর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। গত আগস্টে তা বাড়িয়ে পাঁচ কোটি ডলার করা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় মাদুরো উল্লিখিত মন্তব্য করেছিলেন।
আজ রোববার হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে বিদ্রূপ করা হয়েছে। ৬১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ট্রাম্পের উদ্দেশে মাদুরোর আগস্টের বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষায়িত বাহিনী ‘ডেলটা ফোর্স’–এর অভিযানের টুকরা টুকরা অংশ, আটক মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী ফ্লোরেসের ছবি দেখানো হয়েছে।
ভিডিওতে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলা নিয়ে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনের কিছু অংশও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ‘মাদুরোর একটা সময় পর্যন্ত সুযোগ ছিল। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছেন।’
ভিডিওতে হেগসেথকে একপর্যায়ে কিছুটা কর্কশ ভাষায় বলতে শোনা যায়, ‘মাদুরো বেপরোয়া (এফ***) আচরণ করেছেন। সেটার ফল তিনি হাতেনাতে পেয়েছেন।’ ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে।