সর্বশেষ জনমত জরিপের ফলে আজ মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফলে যে বড় রকমের হেরফের হবে, সে কথা ভাবার কোনো কারণ নেই। অধিকাংশ জরিপ অনুসারে, কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ, অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদ রিপাবলিকানরা ফিরে পাচ্ছে। যা এখনো অনিশ্চিত তা হলো ঠিক কত আসনের ব্যবধানে তারা জয়ী হবে। শোনা যাচ্ছে, স্পিকার হচ্ছেন এই আশায় রিপাবলিকান নেতা কেভিন ম্যাকার্থি ইতিমধ্যে ধোপাখানা থেকে নতুন কোট-প্যান্ট আনিয়ে রেখেছেন। আবার সিনেটের ফলাফল এখনো অনিশ্চিত। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে পেনসিলভানিয়া ও জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনের ফলাফলের ওপর। এই ফলাফল যদি তাদের অনুকূলে যায়, তাহলে সম্ভবত ডেমোক্র্যাটরা আগের মতোই ৫০-৫০ অনুপাতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখবে বা এমনকি একটি অতিরিক্ত আসন দখল সম্ভব হবে।

শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নয়, এই নির্বাচনের ফলাফল বহুলাংশে নির্ধারণ করবে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। ট্রাম্প ইঙ্গিত করেছেন ‘আমেরিকা আবার মহান হোক’, সে কাজে আত্মনিয়োগের জন্য তিনি ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জল্পনাকল্পনা চলছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো তিনি নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করবেন। তবে একটি কিন্তু এখনো রয়ে গেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প দলীয় নেতৃত্ব অগ্রাহ্য করে এমন সব মানুষের প্রার্থিতা সমর্থন করেছেন, যাঁদের যোগ্যতা নিয়ে সবিশেষ সন্দেহ রয়েছে। জর্জিয়ায় সাবেক ফুটবল খেলোয়াড় হারশেল ওয়াকার এবং পেনসিলভানিয়ায় ‘টিভি ডাক্তার’ মেহমেট অজ এঁদের অন্যতম। যদি উভয় আসনেই রিপাবলিকান প্রার্থী পরাস্ত হন, তাহলে সব দোষের তির ছুটবে ট্রাম্পের দিকে। সিনেটে রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এই প্রশ্নে অনেক আগে থেকেই তাঁর উষ্মা ব্যক্ত করেছেন। ফলে যে গৌরবময় বিজয়কে পুঁজি করে ট্রাম্প তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার দিনক্ষণ গুনছেন, তা ভন্ডুল হয়ে যেতে পারে।

এই নির্বাচন ট্রাম্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরও এক কারণে। একাধিক মামলায় তিনি জেরবার হয়ে আছেন। ৬ জানুয়ারি কংগ্রেস ভবনে যে হামলা হয়, সে ব্যাপারে ব্যাপক তদন্তের পর প্রতিনিধি পরিষদের বিশেষ কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে বিপুল প্রমাণাদি হাজির করেছে। এই কমিটির সামনে জবাবদিহির জন্য তাঁকে ইতিমধ্যে সমন জারি করা হয়েছে। কিন্তু যদি প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ বদলে যায়, তাহলে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনই এই কমিটি বাতিল হবে, সে কথা নিশ্চিত করেছেন কেভিন ম্যাকার্থি।

ট্রাম্পের জন্য এই তদন্তের চেয়েও বড় ফাঁড়া হলো অতি গোপনীয় নথিবিষয়ক বিচার বিভাগীয় তদন্ত। তাঁর বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় ফ্লোরিডায় নিজ বাসভবনে অতি গোপনীয় সরকারি নথি নিয়ে আসার অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, বিচার বিভাগ এই অভিযোগে ট্রাম্পকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

কিন্তু এর আগেই যদি তিনি নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন, তাহলে বিষয়টি রিপাবলিকান সমর্থকদের কাছে প্রবল রকম রাজনৈতিক হিসাবে ধরা পড়বে। ট্রাম্প ও একাধিক রিপাবলিকান নেতা বলেছেন, ট্রাম্পকে অভিযুক্ত করলে দেশে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটবে। ফলে কোনো সন্দেহ নেই এই নির্বাচনের ফলাফল বিচার বিভাগের সেই সিদ্ধান্তেও প্রভাব ফেলবে।

মধ্যবর্তী নির্বাচন বাইডেনের জন্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ডেমোক্র্যাটরা আশা করেছিলেন, এই নির্বাচন বাইডেন প্রশাসনের ওপর ‘রেফারেন্ডাম’ বা গণভোট নয়, এটি হবে দুই বিপরীতমুখী রাজনীতির মধ্যে বাছাইয়ের লড়াই। কিন্তু তা না হয়ে শেষমেশ এটি বাইডেনের জন্য গণভোটেই পরিণত হচ্ছে। তাঁর নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থা হ্রাস পাওয়ায় ডেমোক্র্যাটদের এই বিপর্যয়। এই নির্বাচন সত্যিই যদি তাঁর দলের জন্য বড় রকমের বিপর্যয় হয়, তাহলে ২০২৪ সালে বাইডেন নন, অন্য কাউকে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের জন্য চাপ বাড়বে।

বাইডেন যুক্তি দেখিয়েছেন, এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। তাঁর সে কথার সঙ্গে একমত এমন লোকের অভাব নেই, বিশেষ করে সেই সব রিপাবলিকান, যাঁরা ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে ভীত। তাঁদের কেউ কেউ ইতিমধ্যেই হাল ছেড়ে বসে আছেন। ফক্স নিউজের ভাষ্যকার হুয়ান উইলিয়ামস লিখেছেন, মঙ্গলবারের (আজ) জন্য অপেক্ষার প্রয়োজন নেই। ফলাফল আমরা জেনে গেছি, আর তা হলো এই নির্বাচনে ঘৃণা ও মিথ্যাচারের জয় হয়েছে।

একই কথা লিখেছেন রিপাবলিকান নির্বাচনী কৌশলবিদ স্টিভ স্মিথ। এক টুইটার বার্তায় তিনি লিখেছেন, সামনে বিপদ আসছে।