ইরানের আশপাশেই থাকবে মার্কিন সামরিক বাহিনী, চুক্তি না মানলে আবার হামলা: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল বুধবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মার্কিন সামরিক জাহাজ ও যুদ্ধবিমান ইরানের আশপাশে অবস্থান করবে। তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া চুক্তি পুরোপুরি মানতে ব্যর্থ হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘সব মার্কিন জাহাজ, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অতিরিক্ত গোলাবারুদ, অস্ত্রসহ ইরানের আশপাশে নিজেদের অবস্থানে থাকবে, যতক্ষণ না “বাস্তব চুক্তি” সম্পূর্ণরূপে পালন করা হয়।’
‘বাস্তব চুক্তি’–এর ওপর জোর দিতে ট্রাম্প সেটি বড়হাতের অক্ষরে লিখেছেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, যদি কোনো কারণে তা পূরণ না হয়, যা ঘটার সম্ভাবনা খুবই কম, তাহলে ‘আক্রমণ শুরু হবে’—আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়, শক্তিশালী ও বেশি আক্রমণাত্মকভাবে।
গতকাল ইরান বলেছে, ইসরায়েল যেভাবে লেবাননে হামলা করছে, তাতে ইরানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির আলোচনার দিকে এগিয়ে যাওয়া ‘অযৌক্তিক’ হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিন গতকাল লেবাননে তীব্র বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল।
গত মাসে ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর নতুন করে সংঘাত শুরুর পর গতকাল ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে সবচেয়ে বড় বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিন বিকেলে পরপর অন্তত পাঁচবার প্রচণ্ড বিস্ফোরণে লেবাননের রাজধানী বৈরুত কেঁপে ওঠে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা এ যুদ্ধে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমন্বিত বেপরোয়া হামলা চালিয়েছিল। মাত্র ১০ মিনিটে তারা বৈরুত, বেকা উপত্যকা এবং দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ১০০টির বেশি কমান্ড সেন্টার ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্স সার্ভিস জানিয়েছে, এদিন ইসরায়েলের বেপরোয়া হামলায় মোট ২৫৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বৈরুতে, সেখানে সর্বোচ্চ ৯১ জন নিহত হয়েছেন।
তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মোট নিহত ব্যক্তির সংখ্যা ১৮২ জন উল্লেখ করে বলেছে, এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এখনো অনেক দূরত্ব রয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে। ট্রাম্প বলেন, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
কিন্তু ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, যুদ্ধবিরতির শর্তে ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া আছে।