স্থূলতা কমানোর ওষুধ কখনো নিইনি, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মাঝেমধ্যেই প্রকাশ্যে বন্ধু ও কর্মীদের নিয়ে কথা বলেন, তাঁর ভাষায় যাঁরা ‘স্থূলতা কমানোর ওষুধ’ সেবন করেন। তবে তিনি নিজে স্থূলতা কমানোর জনপ্রিয় কোনো ওষুধ নিয়েছেন কি না, তা নিয়ে কখনোই কিছু বলেননি।

গত বুধবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে মুখ খুললেন ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প। স্থূলতা কমানোর জন্য কখনোই উইগোভি কিংবা ওজেমপিকের মতো ওষুধ নেননি বলে জানালেন তিনি। এ বিষয়ে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘না, আমি নিইনি। হয়তো নেওয়া উচিত ছিল।’

২০২০ সালে প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ট্রাম্পের ওজন ছিল ২৪৪ পাউন্ড (১১০ কেজি)। তাঁর ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা অনুযায়ী এই ওজনকে সাধারণত স্থূলতা হিসেবে ধরা হয়। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে প্রেসিডেন্টের সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চিকিৎসকের জানিয়েছিলেন, তাঁর ওজন ২২৪ পাউন্ড বা ১০১ কেজি।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) মানদণ্ডে, বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই) বা দেহ-ভর সূচক অনুযায়ী ট্রাম্পের ওজন অতিরিক্ত ওজন বা স্থূল শ্রেণিতে পড়ে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি অত্যাবশ্যকীয় কিছু ওষুধের দাম কমানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গত নভেম্বরে এ–সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়, যার ফলে প্রতি মাসে অত্যাবশ্যকীয় কিছু ওষুধের দাম ১৪৯ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে।

চুক্তি উপলক্ষে ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প তাঁর সহকারীদের জিজ্ঞেস করেছিলেন, তাঁরা ওই ওষুধগুলো নিয়েছেন কি না। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিককে প্রেসিডেন্ট জিজ্ঞেস করেন, ‘সেক্রেটারি হাওয়ার্ড লুটনিক, আপনি কি এই ওষুধগুলোর কোনোটা নিয়েছেন?’

লুটনিক জবাব দেন ‘এখনো নিইনি।’ ট্রাম্প তখন বলেন, ‘ঠিক আছে, ভালো।’

আরও পড়ুন

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর মেডিকেয়ার অ্যান্ড মেডিকেটেড সার্ভিসেসের (সিএমএস) প্রশাসক মেহমেত ওজকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আচ্ছা, সিএমএসের প্রশাসক মেহমেত ওজ, তিনিও এটি নেননি।’

এরপর হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক স্টিভেন চ্যাংয়ের দিকে তাকান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্টিভ আছেন না। স্টিভ কোথায়? তিনি কি এখানে আছেন? হোয়াইট হাউসের পাবলিক রিলেশনসের প্রধান। তিনিও এটি নিচ্ছেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য বার্তা পাঠানো হলেও স্টিভেন চ্যাং সাড়া দেননি।