মডেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করতে এপস্টিনকে অনুরোধ করেছিলেন এক এজেন্ট

জেফরি এপস্টিনছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মডেল এজেন্ট (মডেলদের কাজ সংগ্রহকারী) র‍্যামসি এলকোলি ১৮ বছরের মতো কম বয়সী মেয়েদের সঙ্গে কুখ্যাত যৌননিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া নিজের পরিচিত এক মডেলের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য এপস্টিনের কাছে অনুনয়–বিনয় করেছিলেন তিনি।

এলকোলি প্রায় এক দশক ধরে এপস্টিনের সঙ্গে শতাধিক ই–মেইল চালাচালি করেছেন। এসব ই–মেইলে নারীদের দেহ ও যৌনবিষয়ক মনোভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করা হয়। তিনি এপস্টিনকে ব্রাজিলে ফ্যাশন ও মডেলিং ব্যবসায় বিনিয়োগেরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এলকোলি যুক্তি দেখিয়েছিলেন, সেখানে বিনিয়োগ করলে তাঁরা আরও বেশি করে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন।

২০১১ সালে এপস্টিনের কাছে পাঠানো ই–মেইল বার্তায় এলকোলি এক নারীর কথা লিখেছিলেন। সেখানে তিনি ২০ বছর বয়সী এক নারীর কথা উল্লেখ করে লিখেছিলেন, ওই নারী অর্থের জন্য মরিয়া হয়ে আছেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘প্রিয় জেফরি, অনুগ্রহ করে একবার তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে দেখুন।’

এলকোলি বিবিসিকে বলেন, ই–মেইলে ব্যবহৃত কিছু কিছু ভাষার জন্য তিনি অনুতপ্ত এবং এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের জন্যও তিনি দুঃখিত। এলকোলির দাবি, এপস্টিন যে নারীদের নিপীড়ন করতেন, তা তিনি জানতেন না।

এলকোলি এখন নিজেকে একজন নৃবিজ্ঞানী এবং সংগীতজ্ঞ হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি মোনোট্রনিক ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা। তবে ২০১০-এর দশকে এলকোলি মডেল এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টিন–সংক্রান্ত যেসব নথি প্রকাশ করেছে, সেখানকার তথ্যের ভিত্তিতে বোঝা যায়, অন্তত ২০০৯ সাল থেকে এপস্টিনের সঙ্গে এলকোলির যোগাযোগ শুরু হয়েছিল। ২০১৯ সালে এপস্টিনের মৃত্যুর কিছুদিন আগে পর্যন্ত এ যোগাযোগ থেকেছে। কীভাবে নারী মডেলদের কাছাকাছি যাওয়া যাবে, তা নিয়েই দুজনের মধ্যে বেশির ভাগ আলোচনা হয়েছে।

এপস্টিন কীভাবে আন্তর্জাতিক মডেলিং শিল্পে অনেক পরিচিতি গড়েছিলেন এবং সেই পরিচিতি ব্যবহার করে কীভাবে প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও কিশোরীদের কাছে পৌঁছাতেন, তা এ ই–মেইলগুলো পড়লে ধারণা পাওয়া যায়। এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার হওয়া নারীদের মধ্যে মডেলরাও আছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ধারণা, প্রায় ১ হাজার নারী এপস্টিনের নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

ই–মেইল বার্তাগুলো থেকে জানা যায়, অন্তর্বাসের ব্র্যান্ড ভিক্টোরিয়া’স সিক্রেটের মালিকসহ ফ্যাশন জগতে এপস্টিনের পরিচিত মানুষদের সঙ্গে মডেলদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার বিষয়ে দুজনের মধ্য আলোচনা হতো। ওই সময় ভিক্টোরিয়াস সিক্রেটের মালিক ছিলেন লেস ওয়েক্সনার। তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের ঘনিষ্ঠতা ছিল।

নথিগুলো থেকে আরও জানা যায়, এলকোলি ফরাসি মডেল এজেন্ট জঁ-লুক ব্রুনেলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতেন। ব্রাজিলের কয়েকজন নারী বিবিসিকে বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে যৌনকর্মে লিপ্ত করার উদ্দেশ্যে নারীদের নিয়োগ দিতেন ব্রুনেল।

২০২২ সালে প্যারিসের কারাগারে মৃত অবস্থায় ব্রুনেলকে পাওয়া যায়। ওই সময় কম বয়সী মেয়েদের ধর্ষণ ও তাদের যৌনকর্মের উদ্দেশ্যে পাচারের অভিযোগে ব্রুনেলের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছিল।

আরও পড়ুন

এলকোলি বিবিসিকে বলেছেন, তিনি এপস্টিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের অংশ ছিলেন না। বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে তাঁর নাম খুঁজলে ২ হাজারের বেশি ফলাফল পাওয়া যায়। যদিও এর মধ্যে অনেকগুলো একই রকম। এলকোলি বলেন, নথিগুলো ঘাঁটলে দেখা যাবে, তিনি ১০ বছরের মধ্যে এপস্টিনের সঙ্গে মাত্র ১০–১২ বার দেখা করেছেন।

অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন ব্যবসায় প্রলুব্ধ করার অভিযোগে কারাগারে থাকার পর ২০০৯ সালে মুক্তি পেয়েছিলেন এপস্টিন। ওই সময় এলকোলি তাঁকে একটি ই–মেইল পাঠিয়েছিলেন। এতে তিনি লিখেছিলেন, ‘আপনাকে বলার প্রয়োজন নেই, আমি আপনার বন্ধুত্বকেও মূল্য দিই। মডেলদের সঙ্গে আপনাকে পরিচয় করানোর বিনিময়ে আমি কখনো কিছু চাইনি। কারণ, আমি এটাকে একটি উপকার মনে করি এবং জানি, আপনিও উপকারের জন্য সদা প্রস্তুত।’

এলকোলি আরও লিখেছিলেন, ‘আপনি একজন বিশ্বস্ত মানুষ জেফরি। আর সেটা আমার জন্য অনেক বড় অর্থ বহন করে।’