ইরানে কি তাহলে ‘ধর্মযুদ্ধ’ চালানোর চেষ্টা করছেন ইসরায়েলের অনুগত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ নামে নিজের একটি বইতে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের মুহূর্তে রয়েছে। ইসরায়েল রাষ্ট্র নিয়ে যে জায়নবাদী মতাদর্শ রয়েছে, তাকেও সমর্থন করেন তিনি। ইসলামপন্থার বিরোধিতা তাঁকে হরহামেশাই করতে দেখা যায়। এখন ইরান যুদ্ধকে কি হেগসেথ ধর্মযুদ্ধ হিসেবে দেখছেন—সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করেছেন জ্যাক উলফ। তিনি সিএনএনের হোয়াট ম্যাটার্স নামের নিউজলেটারের লেখক। সিএনএন পলিটিকসেও লেখালেখি করেন তিনি।
ইরান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। এই যুদ্ধের নেতৃত্বে রয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ; যদিও নিজেকে যুদ্ধমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করতে পছন্দ করেন তিনি। আরেকটি জিনিস নিয়ে কথা বলা তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। সেটি হলো—কীভাবে খ্রিষ্টানদের সৃষ্টিকর্তা তাঁর পক্ষে রয়েছেন।
গত সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন পিট হেগসেথ। সেখানে তিনি বলেন, যুদ্ধ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যে সংকল্প রয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ করা ইরানের উচিত হবে না। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে রয়েছে উচ্চপর্যায়ের শক্তি। ‘সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা’ মার্কিন সেনাদের রক্ষা করছেন। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন সিবিএসের প্রতিবেদক মেজর গ্যারেট। চলমান যুদ্ধকে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখেন কি না—হেগসেথকে এমন প্রশ্ন করেন তিনি। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘অবশ্যই, আমরা এমন ধর্মীয় উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে লড়ছি, যারা মহাপ্রলয় ঘটানোর জন্য পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জন করতে চায়। এমন সময়ে মার্কিন সেনাদের সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে একটি গভীর সংযোগ থাকা প্রয়োজন।’
যুদ্ধের মধ্যে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকজন মার্কিন সেনা নিহত হন। তাঁদের মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে গ্রহণ করার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলন করেন হেগসেথ। সেখানে বাইবেলের একটি উদ্ধৃতি তুলে ধরেন তিনি। সেটি হলো—‘ধন্য সেই প্রভু, আমার রক্ষাকর্তা, যিনি আমার হাতকে যুদ্ধের জন্য এবং আঙুলকে লড়াইয়ের জন্য প্রশিক্ষণ দেন।’
হেগসেথের যুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র খ্রিষ্টান রাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রকে দীর্ঘদিন ধরে নতুন করে সাজাতে চান হেগসেথ। সম্প্রতি ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে তিনি বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিষ্টান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ডিএনএতে এটি এখনো খ্রিষ্টান দেশ হিসেবে রয়ে গেছে, যদি আমরা তা ধরে রাখতে পারি।’
ইসলামপন্থী বা যারা মুসলিমদের বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সমাজ ও সরকারকে নতুন করে গঠন করতে চায়, তাদের বিরোধিতা করাই হেগসেথের জীবনে প্রেরণার একটি প্রধান উৎস।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের একটি মতবাদ ছিল। সেটি হলো—যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের অস্ত্রভান্ডার হতে হবে। সেই মতবাদের সঙ্গে নিজের ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে মিলিয়ে হেগসেথ বলেন, ‘আমরা শুধু মুক্তির অস্ত্রভান্ডার নেই, বরং শেষ পর্যন্ত আমরা বিশ্বাসের অস্ত্রভান্ডার দিয়েও সজ্জিত।’
বুকে ‘বিশ্বাসের’ ট্যাটু
হেগসেথের বুকে একটি ট্যাটু রয়েছে। সেটি একটি ‘জেরুজালেম ক্রস’। ধর্মীয় এই প্রতীকটির ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। ক্রুসেডের সময় মুসলিমদের কাছ থেকে ‘পবিত্র ভূমি’ পুনরায় দখলের চেষ্টা করেছিল ইউরোপের খ্রিষ্টানরা। হেগসেথ বলেন, এই ট্যাটুর কারণে তাঁকে চরমপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
‘আমেরিকান ক্রুসেড’ বইতে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই করতে চাই না। কিন্তু এক হাজার বছর আগে আমাদের খ্রিষ্টান ভাইদের মতো, আমাদেরও লড়াই করা বাধ্যতামূলক।’
হেগসেথের শরীরে আরেকটি ট্যাটুও রয়েছে। সেটিতে লেখা ‘দেউস ভুল্ট’। এর অর্থ ‘ঈশ্বর এটি চান’। ২০২০ সালে ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ নামের একটি বই লিখেছিলেন হেগসেথ। সেখানে ‘দেউস ভুল্ট’ শব্দযুগলকে হেগসেথ উল্লেখ করেছেন ক্রুসেডের সময় ‘জেরুজালেমের দিকে যাত্রার সময় খ্রিষ্টান নাইটদের ঐক্যের ডাক হিসেবে।’
হেগসেথের লেখনী দেখে স্পষ্ট মনে হচ্ছে, তিনি কেবল ইরানবিদ্বেষী নন, তিনি চরম মুসলিমবিদ্বেষী এবং ইসরায়েলের প্রতি চরমভাবে অনুগত।
একুশ শতকের ‘ক্রুসেড’
ইসলামপন্থী বা যারা মুসলিমদের বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে সমাজ ও সরকারকে নতুন করে গঠন করতে চায়, তাদের বিরোধিতা করাই হেগসেথের জীবনে প্রেরণার একটি প্রধান উৎস। ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে একটি ‘ক্রুসেডের মুহূর্তে’ রয়েছে। কথাটি এগারো শতকের পবিত্র ভূমিতে খ্রিষ্টানদের অভিযানের সময়ের মতো শোনায়।
হেগসেথের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘বামপন্থীদের’ সহায়তায় ইসলামপন্থীরা সৃষ্টিকর্তাভীরু মার্কিন খ্রিষ্টানদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।
বইয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিখেছেন, ‘আমরা লড়াই করতে চাই না। কিন্তু এক হাজার বছর আগে আমাদের খ্রিষ্টান ভাইদের মতো, আমাদেরও লড়াই করা বাধ্যতামূলক।’
খ্রিষ্টান জায়নবাদ মতবাদ অনুযায়ী, পবিত্র ভূমিতে ইহুদিদের ফিরে যাওয়ার অধিকার বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চরম ইরানবিদ্বেষী ও ইসরায়েলের একনিষ্ঠ অনুগত হেগসেথ ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলের পাশে থেকে যুদ্ধে নামতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি লেখেন, ইহুদি বন্ধু এবং ইসরায়েলের অসাধারণ সেনাবাহিনীর পাশে থেকে খ্রিষ্টানদের ‘আমেরিকাবাদের’ তলোয়ার ধরতে হবে। সাংস্কৃতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে ও ভৌগোলিকভাবে ইসলামপন্থাকে পেছনে ঠেলে দিতে হবে।
ইসলামের প্রতি দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস
হেগসেথের বই ‘আমেরিকান ক্রুসেড’–এ মূলত ইসলামিক স্টেট বা আইএসের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরার কথা বলা হলেও এখন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। বইটির আরেক অংশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইসলামের হুমকিকে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন হেগসেথ।
বইয়ে হেগসেথ লেখেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত মার্কিনরা এই ভ্রান্ত ধারণায় থাকবে যে ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম—বিশেষ করে যখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তন হচ্ছে—আমাদের কাজ ততই কঠিন হয়ে যাবে। ইসলাম তার শত্রুদের, অর্থাৎ সব “অবিশ্বাসীর” সঙ্গে প্রতিষ্ঠার পর থেকে যুদ্ধ করে চলেছে। এটি কখনো বন্ধ হবে না।’
পেন্টাগনে ধর্মের প্রয়োগ
যুদ্ধ শুরুর আগে ‘চ্যাপলিন কোরকে মহান করে তোলার’ একটি উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন হেগসেথ। চ্যাপলিন কোর হলো ধর্মযাজকদের একটি দল। সামরিক চ্যাপলিনদের কাজ হলো সব ধর্মের মানুষের সেবা করা। কিন্তু হেগসেথ তাদের নির্দেশিকা এমনভাবে পুনর্লিখন করতে চান, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ভাষার পরিবর্তে ধর্মীয় ভাষার ব্যবহার বেশি থাকবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনজুড়ে প্রচার করা হয়—এমন একটি মাসিক প্রার্থনার জন্যও চাপ দেন হেগসেথ। গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি তাঁর ধর্মযাজক ডগ উইলসনকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। উইলসন একজন খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টীয় ধর্মতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।
সামরিক বাহিনীর ধর্মনিরপেক্ষ অংশের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সেনাসদস্যদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে অলাভজনক সংগঠন মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশন (এমআরএফএফ)। সংগঠনটি জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর এক মাসের কম সময়ের মধ্যে তারা বহু অভিযোগ পেয়েছে। তবে সেসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করে দেখতে পারেনি সিএনএন।
এমআরএফএফের প্রতিষ্ঠাতা মিকি ওয়েইনস্টেইনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারীরা প্রতিশোধের ভয়ে সামনে আসেন না। তাই বিষয়টি যাচাই করা কঠিন।
তবে মিকি ওয়েইনস্টেইন বলেন, ইরান যুদ্ধ বাইবেলের ‘শেষ সময়ের ভবিষ্যদ্বাণীর’ অংশ বলে আলোচনা করছেন সামরিক কর্মকর্তারা—এমন কথাও আছে অভিযোগের মধ্যে। এসব অভিযোগ নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ওয়েইনস্টেইন বলেন, হেগসেথের ভাষা মুসলিম বিশ্বের কাছে এমন এক ধারণা দেয়—যুক্তরাষ্ট্র নিজস্ব একটি ধর্মযুদ্ধ বা ক্রুসেড শুরু করছে।
ওয়েইনস্টেইন বলেন, ‘এগারো থেকে তেরো শতক পর্যন্ত আটটি ক্রুসেড হয়েছিল। আমরা ঠিক এর নবম সংস্করণ দেখছি। আরব উপদ্বীপে বোকো হারাম, ইসলামিক স্টেট, তালেবান, আল–কায়েদা—তারা শিয়া বা সুন্নি, যা–ই হোক না কেন—সবাই এটাকে এমনভাবেই দেখবে যে আমরা বিশাল মুসলিম জাতির ওপর হামলা করছি।’
একজন খ্রিষ্টান ও একজন জায়নবাদী
গত বছর হেগসেথের নিয়োগের সময় তাঁকে আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটন জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তিনি নিজেকে একজন খ্রিষ্টান জায়নবাদী বলে মনে করেন কি না? জবাবে হেগসেথ বলেছিলেন, ‘আমি একজন খ্রিষ্টান। আর আমি দৃঢ়ভাবে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে সমর্থন করি। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অস্তিত্ব রক্ষাকে সমর্থন করি। যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে বড় মিত্র হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়ায়, সেটিও সমর্থন করি।’
জায়নবাদ হলো এমন একটি মতবাদ, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে ইহুদিদের নিজেদের একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও তা রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। আর খ্রিষ্টান জায়নবাদ মতবাদ অনুযায়ী, পবিত্র ভূমিতে ইহুদিদের ফিরে যাওয়ার অধিকার বাইবেলের বুক অব জেনেসিসে নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহামার রাজনীতি ও ধর্মবিষয়ক অধ্যাপক এবং খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদ নিয়ে একটি বইয়ের সহলেখক অ্যালিসন শর্টল বলেন, ‘অনেকে বিশ্বাস করেন—বিশেষ করে খ্রিষ্টানরা বিশ্বাস করেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র হলো বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণী মিলে যাওয়া।’
অ্যালিসন শর্টলের মতে, হেগসেথের খ্রিষ্টধর্মের ধারাটি মার্কিন ধর্মীয় ব্যতিক্রমবাদের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গির অর্থ হলো—মার্কিনরা বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের মানুষের চেয়ে আলাদা এবং অন্যান্য সমাজের সঙ্গে একটি বৃহত্তর নৈতিক দ্বন্দ্বে লিপ্ত। খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদ ও আমেরিকান ধর্মীয় ব্যতিক্রমবাদ মূলত একই ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ। সেখানে খ্রিষ্টানদের সবার ওপরে রাখা হয়, আর অন্যরা তাদের নিচে থাকে। এটি অত্যন্ত আধিপত্যবাদী একটি প্রক্রিয়া।
আমরা বনাম তারা
এই দৃষ্টিভঙ্গির একজন মানুষের (হেগসেথ) কাছে ইরান এমন এক লড়াইয়ের বিপরীত পক্ষে রয়েছে, যে লড়াই শুধু জাতীয় স্বার্থের বিষয় নয়, একই সঙ্গে নীতি ও বিশ্বাসের বিষয়ও—বলছিলেন ড্যানিয়েল হামেল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ম্যাডিসনভিত্তিক লুমেন সেন্টারের পরিচালক। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, তারা খ্রিষ্টান পণ্ডিতদের একটি সংঘ।
হেগসেথের দৃষ্টিভঙ্গিকে অ্যালিসন শর্টল মূলধারার বাইরে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এ–ও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় অর্ধেক মানুষ কোনো না কোনো ধরনের খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী মতাদর্শকে সমর্থন করেন। এই ধারণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র একটি খ্রিষ্টান দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর এর পেছনে রয়েছে ঐশ্বরিক অনুপ্রেরণা।
অ্যালিসন শর্টল আরও বলেন, ‘এটি খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অংশ হতে পারে—সে প্রেক্ষাপট বাদ দিলে মানুষ সামগ্রিক এ ধারণা বেশ পছন্দই করে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিপুলসংখ্যক মার্কিন নাগরিক এটি সমর্থন করছেন। কারণ, এটি অনেক অগণতান্ত্রিক ফলাফল এবং অগণতান্ত্রিক বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত।’
হেগসেথ অবশ্য এ ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন না। ‘আমেরিকান ক্রুসেড’ বইয়ে তিনি যিশুর শান্তির শিক্ষার সঙ্গে নিজের বৈচিত্র্যবাদের বিরুদ্ধচারণ এভাবে মিলিয়েছেন—‘তথাকথিত সহনশীলতা ইসলামপন্থীদের কাছে আত্মসমর্পণের মতো শোনায়। কারণ, এটি আসলে তা-ই। যিশুখ্রিষ্ট অন্যের আঘাত সহ্য করতে বলেছিলেন ঠিকই; তবে আমি নিশ্চিত, তিনি সেই সময় কোনো প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে এ পরামর্শ দিচ্ছিলেন না।’