সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা, জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্পের ভিডিও করবে না ৫ টেলিভিশন

সিএনএনকে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার পর সেখানে সিএনএনের বুথের দৃশ্য। ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: রয়টার্স

হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএস নাউ। এই তিন সংবাদমাধ্যমের অভিযোগ, হোয়াইট হাউসে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার মধ্য দিয়ে ট্রাম্প মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন।

এদিকে এই মামলা দায়ের হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমের সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এটি। গতকাল সোমবার সকালে ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মামলাটি করা হয়।

ট্রাম্পের জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ পাঁচটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শুক্রবার এই তিন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, এসব সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রতিবেদনে তিনি বিরক্ত। পরদিন গত শনিবার তিনটি প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর হোয়াইট হাউস প্রতিনিধিদের পুলের প্রতিনিধিত্ব থেকেও সিএনএনকে বাদ দেওয়া হয়।

এমন পরিস্থিতিতে তিন সংবাদমাধ্যম এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোনো নোটিশ না দিয়ে বা প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই হোয়াইট হাউস আমাদের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র বাতিল করেছে। কারণ, তারা আমাদের প্রতিবেদন পছন্দ করেনি। এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ না করলে তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সরকারের হস্তক্ষেপমুক্ত স্বাধীন সাংবাদিকতা করার ক্ষেত্রে জনগণের অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলবে।’

বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমগুলো আরও বলেছে, আজ মঙ্গলবার মামলা করার বিষয়টি তারা সরকারকে জানিয়েছে। মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম কী প্রতিবেদন করবে, তা সরকার নির্ধারণ করে দিতে পারে না। প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী সংবাদমাধ্যমের অধিকার রক্ষা এবং এ নীতি প্রতিষ্ঠার জন্যই মামলাটি করা হয়েছে।

মামলা ও ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার এক আবেদনে বাদীপক্ষ যুক্তি দিয়েছে, হোয়াইট হাউস সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। তাই শুধু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দৃষ্টিভঙ্গির অজুহাতে সেই বিশেষ অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

এর আগে এ ধরনের মামলায় আদালতের রায় বাদীদের পক্ষেই গিয়েছিল। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সিএনএনের জিম অ্যাকোস্টা ও প্লেবয় ম্যাগাজিনের ব্রায়ান কারেম নামের দুই সাংবাদিককে হোয়াইট হাউস থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। ট্রাম্পের যুক্তি ছিল, তাঁরা তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ‘ভুয়া খবর’ লিখছেন।

হোয়াইট হাউসের বাইরে থেকে প্রতিবেদন করছেন এমএস নাওয়ের সংবাদদাতা আকায়লা গার্ডনার। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: রয়টার্স

ওই দুই সাংবাদিক তখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। আদালত রায় দেন, প্রেসিডেন্ট চাইলেই তাঁর অপছন্দের খবর লেখার অপরাধে সাংবাদিকদের কার্ড কেড়ে নিতে পারেন না। এটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। আদালত হোয়াইট হাউসকে তাঁদের কার্ড ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেন।

হোয়াইট হাউসে সব চ্যানেলের ক্যামেরা একসঙ্গে ঢুকতে পারে না। তাই নিয়ম হলো, প্রধান পাঁচটি চ্যানেল (ফক্স নিউজ, এবিসি, সিবিএস, এনবিসি ও সিএনএন) মিলে একটি দল বা পুল তৈরি করে। একেক দিন একেক চ্যানেলের ক্যামেরাম্যান ট্রাম্পের ভিডিও ধারণ করেন এবং সেই ফুটেজ বাকি সব চ্যানেলকে দেন।

ট্রাম্পের জাতিসংঘের অধিবেশনে যাওয়ার ভিডিও করার দায়িত্ব ছিল সিএনএনের ওপর। কিন্তু গতকাল হোয়াইট হাউস সিএনএনকে ওই দল থেকে বের করে দেয়। জবাবে ফক্স নিউজসহ বাকি চারটি বড় চ্যানেল একজোট হয়ে এক চিঠিতে জানিয়ে দেয়, সিএনএনকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়ায় কোনো চ্যানেলই ট্রাম্পের কোনো অনুষ্ঠানের ভিডিও করবে না।

আরও পড়ুন

এদিকে মামলার খবর শুনে ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘হোয়াইট হাউস স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর কোনো আক্রমণ চালাচ্ছে না, যা আমি লালন করি। এটি ভুয়া খবরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আমাদের প্রিয় যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া খবর ক্যানসারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। এটি দুর্নীতিগ্রস্ত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সর্বব্যাপী, পুরোপুরি সমন্বিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই এটি এখনই বন্ধ করতে হবে!’

কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউট গতকাল জানিয়েছে, তারা সংবাদমাধ্যমগুলোর করা মামলায় সমর্থন করবে।

আরও পড়ুন