সিআইএর কুখ্যাত ‘ডাবল এজেন্ট’ অলড্রিখ এইমসের কারাগারে মৃত্যু

১৯৯৪ সালে আদালত থেকে অলড্রিখ এইমসকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছেছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে মারা গেছেন দেশটির সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা অলড্রিখ এইমস। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) এই কর্মকর্তা ‘ডাবল এজেন্ট’ বা দ্বৈত গুপ্তচর হিসেবে কাজ করার জন্য কুখ্যাত।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষতি করা ডাবল এজেন্টদের একজন হলেন এইমস। গত সোমবার মেরিল্যান্ডের কম্বারল্যান্ডে অবস্থিত ফেডারেল কারেকশনাল ইনস্টিটিউশনে বন্দী অবস্থায় মারা যান এইমস। সেখানে তিনি আজীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন। তাঁর সাজায় প্যারোলে মুক্তির সুযোগ ছিল না।

এইমস প্রায় এক দশক ধরে সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছে গোপন তথ্য বিক্রি করেছেন। এক শটির বেশি গোপন অভিযানের সঙ্গে আপস করেছেন। তাঁর কারণে পশ্চিমা দেশগুলোর হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করা ৩০ জনের বেশি এজেন্টের পরিচয় ফাঁস হয়ে যায়। তাঁর তথ্য ফাঁসের কারণে সিআইএর অন্তত ১০ জন গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রাণ হারান।

১৯৯৪ সালের ২৮ এপ্রিল এইমসকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি আদালতে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং পরে রাশিয়ার কাছে গোপন তথ্য বিক্রির কথা স্বীকার করে নিয়েছিলেন।

আদালতকে এইমস বলেছিলেন, ঋণ পরিশোধের জন্য তাঁর অর্থের দরকার পড়েছিল। অর্থের জন্য তিনি ১৯৮৫ সালের এপ্রিল থেকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবিকে সিআইএর গুপ্তচরদের নাম সরবরাহ করতে শুরু করেন। এর বিনিময়ে তিনি প্রথম দফায় ৫০ হাজার ডলার পেয়েছেন।

কেজিবির কাছে এইমসের কোডনেম (সাংকেতিক নাম) ছিল ‘কোলোকল’ (ইংরেজিতে দ্য বেল)। তিনি কেজিবির কাছে সোভিয়েত ইউনিয়নে কাজ করা সিআইএর প্রায় সব গুপ্তচরের পরিচয় ফাঁস করে দেন এবং বিনিময়ে প্রচুর অর্থ পান।

১৯৮৫ সালে হঠাৎ করেই উধাও হতে শুরু করেন সিআইএর হয়ে কাজ করা সোভিয়েত এজেন্টরা। সোভিয়েত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবি একে একে তাদের ধরে নিয়ে যায় এবং অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে।

আদালতে এইমস আট পাতার একটি বিবৃতি পড়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন,  ‘কেজিবি আমাকে বলেছিল, আমার দেওয়া তথ্যের বিনিময়ে কৃতজ্ঞতাস্বরূপ তারা আমার জন্য ২০ লাখ ডলার আলাদা করে রেখেছে। আজও যা আমার কাছে এক অপার বিস্ময়।’

এইমস স্বীকার করেন, ৯ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে দফায় দফায় মোট প্রায় ২৫ লাখ ডলার পেয়েছেন।

এই অর্থ দিয়েই এইমস বিলাসী জীবনযাপন শুরু করেন। তিনি নতুন জাগুয়ার গাড়ি কেনেন, বিদেশ ভ্রমণ করেন এবং সাড়ে পাঁচ লাখ ডলারের একটি বিশাল বাড়ি কিনেছিলেন। অথচ তাঁর বার্ষিক বেতন কখনো ৭০ হাজার ডলার অতিক্রম করেনি।

১৯৬২ সালে কলেজে লেখাপড়া শেষ না করেই বাড়ি ফিরে এসেছিলেন এইমস। তখন তাঁর বাবা সিআইএর একজন বিশ্লেষক ছিলেন। বাবার হাত ধরেই তিনি সিআইএর গোয়েন্দা হিসেবে কাজ শুরু করেন। তিনি প্রায় ৩১ বছর সিআইএর হয়ে কাজ করেছেন।

আরও পড়ুন