ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাননি ট্রাম্প, এটা নিয়ে কী বলেছিলেন কার্লসন ও মাস্ককে
ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের শুরুর দিকে তিনি নিজেই বলেছিলেন, ‘আমরা এটা করব না।’
ডানপন্থী ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসন এবং স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেছিলেন বলে নতুন একটি বইয়ে দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ওভাল অফিসে তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এ কথা বলেছিলেন।
বইটির নাম ‘রেজিম চেঞ্জ’। লিখেছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ান।
এ দুই প্রতিবেদকের মতে, ডানপন্থী প্রভাবশালী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব হয়েও কার্লসন বিভিন্ন সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন। এরপরও তাঁর পরামর্শ চেয়েছিলেন ট্রাম্প। এর কারণ হতে পারে, ট্রাম্প ভেবেছিলেন, তাঁর সমর্থকদের উল্লেখযোগ্য অংশের ওপর তখনো কার্লসনের প্রভাব রয়েছে।
ফিলিস্তিনের গাজায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের জন্য ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দোষারোপ করতে অস্বীকৃতি জানানোয় কার্লসন ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। বইটিতে বলা হয়েছে, এখন তিনি (কার্লসন) প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে স্পষ্ট করে দেবেন, একটি বৃহত্তর যুদ্ধ তাঁর সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।
ওই দুই সাংবাদিক–লেখক বলছেন, আলাপচারিতায় কার্লসন প্রেসিডেন্টকে বলেছিলেন, ‘ওরা চায় আপনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান।’ জবাবে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এটা করব না।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কার্লসনকে আরও বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় না, আমার মতো শক্তিশালী কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এর আগে কখনো ছিলেন।’
ট্রাম্পের এমন আত্মবিশ্বাসকে ঔদ্ধত্য বলেই মনে হয়েছিল কার্লসনের, লিখেছেন হ্যাবারম্যান ও সোয়ান। তখন কার্লসন জবাবে বলেছিলেন, ‘এফডিআরের (প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট) পর আর (এমন শক্তিশালী প্রেসিডেন্ট) দেখা যায়নি। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ছাড়া আর কিছুই এ সাফল্যকে ভন্ডুল করতে পারবে না।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সর্বাত্মক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সঙ্গে ছিল ইসরায়েল। যুদ্ধ বন্ধের জন্য গত বুধবার একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। এখন সুইজারল্যান্ডে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনা চলবে। এরপর দুই পক্ষ একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হ্যাবারম্যান ও সোয়ানের নতুন বইটি আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত হওয়ার কথা। এতে ইরানের সঙ্গে ট্রাম্পের যুদ্ধ করার সিদ্ধান্তের বিবরণ, জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারি নিয়ে সিচুয়েশন রুমের আলোচনার মতো বিষয়গুলোও রয়েছে।