বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসাবিধি কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র, পড়া শেষে দেশ ছাড়তে সময় ৩০ দিন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে অবস্থিত রোনাল্ড রিগ্যান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল বিমানবন্দরে হেঁটে যাচ্ছেন এক যাত্রী। ১৫ মার্চ ২০২৬ছবি: রয়টার্স

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা–সংক্রান্ত বিধি আরও কঠোর করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ঘোষিত নতুন বিধির আওতায়, ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমতি না থাকলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না।

এ ছাড়া একাডেমিক প্রোগ্রাম পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে। এত দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা রাখত।

আরও পড়ুন

গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এ নীতি কার্যকর হবে। এর উদ্দেশ্য, ভিসার ব্যাপক অপব্যবহার রোধ এবং নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা।

শিক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ নতুন এ বিধিকে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ উল্লেখ করে সমালোচনা করেছে।

এত দিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁদের থাকার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হবে।

এত দিন এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা এবং জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীরা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ নীতির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারতেন। কিন্তু নতুন নিয়মে তাঁদের থাকার ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেন, ‘দশকের পর দশক বিদেশি শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে হাজারও মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়া এড়াতে একের পর এক কোর্সে ভর্তি হয়ে আমাদের অভিবাসনব্যবস্থার অপব্যবহার করেছে।’

যুক্তরাষ্ট্রে বেশির ভাগ স্নাতক ডিগ্রি শেষ করতে সাধারণত চার বছর লাগে। তবে পিএইচডিসহ উচ্চতর পর্যায়ের অনেক কোর্স শেষ করতে এর চেয়ে বেশি সময় প্রয়োজন হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ গ্র্যাজুয়েশন পর্যায়ের কোর্সে পড়াশোনা করেন। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ে ভর্তি হন তাঁরা। এসব কোর্স সম্পন্ন ও গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া গবেষণার জন্য তহবিলের ঘাটতি বা ব্যক্তিগত নানা কারণেও অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা শেষ করতে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বা ভিসাকে অন্য ধরনের ভিসায় পরিবর্তন করতে মাত্র ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সুযোগ ছিল।

অলাভজনক সংস্থা ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস’ (নাফসা) বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। সংস্থাটি নতুন এ নিয়মের সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফান্টা আও বলেন, ‘নতুন এ নীতি দীর্ঘদিন ধরে কার্যকরভাবে চলা একটি ব্যবস্থায় অযথা অনিশ্চয়তা, অতিরিক্ত আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। এটি এমন একটি সমস্যার সমাধান খুঁজছে, যার বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।’

এ নতুন নিয়ম বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করেছেন—এমন বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে।