ইরানের তেল বিক্রির সুবিধা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, দাম বাড়ল বিশ্ববাজারে
বিশ্ববাজারে ইরানের তেল বিক্রির সাময়িক সুবিধা (নিষেধাজ্ঞা মওকুফ) বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালির কাছে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপের পরপরই গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম গত ২৫ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিন দিনের শেষভাগে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭২ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৫ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৭৫ ডলার পার হয়।
ইরান শুধু তখনই সুবিধা পাবে, যখন তারা ভালো আচরণ দেখাবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা গতকাল বিকালে এনবিসি নিউজকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসন বারবার স্পষ্ট করে বলেছে, ইরানের সঙ্গে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) কার্যকর হওয়া সম্পূর্ণভাবে তাদের আচরণের ওপর নির্ভর করছে।’
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘ইরান শুধু তখনই সুবিধা পাবে, যখন তারা ভালো আচরণ দেখাবে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্মকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর জন্য তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে।’
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই সুবিধা বাতিলসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইরান থেকে তেল উৎপাদন, সরবরাহ বা বিক্রির যেকোনো কার্যক্রম ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে গুটিয়ে নিতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি বেশ কয়েক মাস ধরে জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মার্কিন সিদ্ধান্ত তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল।
এর আগে মূল চুক্তি অনুযায়ী আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে এই তেল বিক্রির সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপের আগে গতকাল যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স সেন্টার জানায়, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় (গত সোমবার) দুটি জাহাজে হামলার দুটি অভিযোগ তারা পেয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এর মধ্যে একটি জাহাজে ‘অজ্ঞাত ড্রোন’ দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজটিতে একটি ‘অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র’ আঘাত হেনেছে এবং এতে জাহাজটির কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের সংস্থাটি আরও জানায়, গতকাল ওমান উপকূলের অদূরে তৃতীয় আরেকটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এর ফলে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিটি বেশ কয়েক মাস ধরে জাহাজ চলাচলের জন্য কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ অত্যন্ত সীমিত হয়ে পড়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা মওকুফের মার্কিন সিদ্ধান্ত তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল।