অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক ঘর পুড়ে ছাই

নীলফামারী সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি চড়াইখোলা মাস্টারপাড়া গ্রামে গত বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৫৭ পরিবারের দুই শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে আহাজারি করছেন এক নারী। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা l প্রথম আলো
নীলফামারী সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি চড়াইখোলা মাস্টারপাড়া গ্রামে গত বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৫৭ পরিবারের দুই শতাধিক ঘর পুড়ে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে আহাজারি করছেন এক নারী। ছবিটি গতকাল দুপুরে তোলা l প্রথম আলো

নীলফামারীর সদর উপজেলার চড়াইখোলা ইউনিয়নের আরাজি চড়াইখোলা মাস্টারপাড়া গ্রামে গত বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে দুই শতাধিক ঘর, ঘরে রাখা আসবাবপত্র ও মালামাল সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এ ছাড়া অগ্নিদগ্ধ হয়ে তিনটি গরু ও একটি ছাগল মারা গেছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১১টার দিকে ওই গ্রামের আবদুল ওয়াহেদের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে নীলফামারী ও ইপিজেডের ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই গ্রামে গিয়ে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। এ সময় মোজাম্মেল হক (৫০) বলেন, ওই দিন রাত ১১টার দিকে ওয়াহেদের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে আগুনে গ্রামের ৫৭টি পরিবারের দুই শতাধিক ঘর, আসবাব, ধান-চাল, আলু, নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনটি গরু, একটি ছাগল, শতাধিক হাঁস-মুরগি ও কবুতর অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায়। অগ্নিকাণ্ডে তাঁর নিজের দুটি ঘর, আসবাব ও ১৫ হাজার টাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
মহব্বত হোসেনের স্ত্রী সাহিদা বেগম (৩০) আহাজারি করে বলছিলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল। এখন আমার কী হবে?’ এ সময় কয়েকজন প্রতিবেশী বলেন, অগ্নিকাণ্ডে সাহিদার চারটি ঘরসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়েছে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল ও নগদ ১০০ টাকা করে বিতরণ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আসাদুল হক শাহ্। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাবেত আলী ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চড়াইখোলা ইউপির চেয়ারম্যান আবদুর রউফ মোল্লা বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ইউপির পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার সকালে ও দুপুরের খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে।
ইউএনও সাবেত আলী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ঘর নির্মাণের জন্য দুই-এক দিনের মধ্যে টিনের ব্যবস্থা করা হবে। সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশের বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি।’