শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল গ্রামে। সেখানে প্রায় চার বছর পাঠদান কার্যক্রমও চলেছে। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি পৌর সদরে স্থানান্তর করে সেখানে পাঠদান কার্যক্রম চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামের ছেলেমেয়েরা।
স্থানান্তরিত হওয়া প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘বঙ্গবন্ধু টেকনিক্যাল বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট’। নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বেড়গঙ্গারামপুর গ্রামে স্থাপিত প্রতিষ্ঠানটিতে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠদান শুরু হয়। ২০১৫ সালের ৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটি গুরুদাসপুর পৌর শহরের থানার পাশে স্থানান্তর করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সাইদুল ইসলাম। সেখানেই ভবন ভাড়া নিয়ে চলছে পাঠদান। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীসংখ্যা প্রায় ৩০০।
ওই প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আবদুর রাজ্জাক শাহ অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের সময় স্থানীয়ভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রভাব খাটিয়ে আসবাব স্থানান্তর করে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যান। এ নিয়ে নাটোর সহকারী জজ আদালতে (গুরুদাসপুর) একই বছরের ২৬ মে একটি মামলা করেন দাতা সদস্য আবদুর রাজ্জাক শাহ। একই সঙ্গে বিধিবহির্ভূতভাবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে জানান জমিদাতারা।
দাতা সদস্য আবদুল বারেক ও রবিউল শাহ অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও এইচএসসি (ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা) শাখার অনুমোদন ও পরে উচ্চমাধ্যমিক (সাধারণ) শাখা খুলে ‘নিয়োগ-বাণিজ্য’ শুরু করেন। আর নিয়োগ-বাণিজ্য নির্বিঘ্নœকরতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কলেজটি স্থানান্তর করেন।
দাতা সদস্য আবদুর রাজ্জাকের ছেলে জালাল উদ্দিন শাহ অভিযোগ করেন, গ্রামের ছেলেমেয়েদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১০১ শতক জায়গা নিবন্ধন করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি এলাকার মানুষের সহযোগিতা ও সরকারি সহায়তায় আধা পাকা তিনটি ঘর ও প্রয়োজনীয় আসবাব তৈরি করে পাঠদান শুরু হয়। কমপক্ষে ১০ জন গ্রামবাসী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি শহরে স্থানান্তরের কারণে গ্রামের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ছেলেমেয়েরা শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হওয়ায় তাঁর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাইদুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘জমিদাতাদের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্বন্দ্ব এবং কতিপয় শিক্ষক মারধরের শিকার ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। তা ছাড়া, জমিদাতারা জমি ফেরত চেয়ে আদালতে মামলা করায় শিক্ষার পরিবেশ বিরূপ হয়ে ওঠে। ফলে কলেজটি স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছি।’ আদালতে লিখিত জবাবে তিনি জানিয়েছেন, পরিবেশ অনুকূলে এলে তাঁরা আগের জায়গায় ফিরে যাবেন। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিদর্শক আবদুল কুদ্দুস সরদার গত সোমবার জানান, কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর বিধিপরিপন্থী। ওই প্রতিষ্ঠান স্থানান্তরের জন্য বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।