বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

অপমান সইতে না পেরে স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যা

স্কুলছাত্রী শ্রাবন্তী রানীকে (১৬) আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গতকাল গোবিন্দগঞ্জের লক্ষ্মীপুর বাজারে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী । প্রথম আলো
স্কুলছাত্রী শ্রাবন্তী রানীকে (১৬) আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের দাবিতে গতকাল গোবিন্দগঞ্জের লক্ষ্মীপুর বাজারে  মানববন্ধন করে এলাকাবাসী । প্রথম আলো

এক প্রতিবেশীর বাগান নষ্ট করেছিল এক স্কুলছাত্রীর পরিবারের ছাগল। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই প্রতিবেশীর ছেলে স্কুলছাত্রী ও তাঁর মাকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ওই স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করেছে।

গত সোমবার বিকেলে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ধনকুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার বিচার এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল গতকাল দুপুর ১২টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের লক্ষ্মীপুর বাজারে  মানববন্ধন করে।

ওই ছাত্রীর নাম শ্রাবন্তী রানী (১৬)। সে গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ধনকুটি গ্রামের গঙ্গা দাসের মেয়ে। গঙ্গা দাস চট্টগ্রামে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। শ্রাবন্তী লক্ষ্মীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে শ্রাবন্তীদের একটি ছাগল প্রতিবেশী তপন চন্দ্রের কলার বাগানে যায়। কলার বাগান নষ্টের অভিযোগে ছাগলটিকে আটক করে বাড়ি নিয়ে যান তপন চন্দ্রের ছেলে লিখন চন্দ্র। খবর পেয়ে ছাগলটি আনতে তপনের বাড়িতে যান শ্রাবন্তীর মা দীপ্তি রানী। এই সময় লিখন ও তাঁর পরিবারের লোকজন তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করেন। পরে শ্রাবন্তীদের বাড়িতে গিয়ে শ্রাবন্তীতে তুলে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যান লিখন চন্দ্র। এই সময় লিখন ও তাঁর পরিবারের লোকজন মা ও মেয়েকে মারধর এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। বিকেলে শ্রাবন্তী বাড়িতে ফিরে গিয়ে ঘরের ধরনার সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে।

খবর পেয়ে গত সোমবার রাতে পুলিশ শ্রাবন্তীদের বাড়িতে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে গতকাল মঙ্গলবার শ্রাবন্তীর মা দীপ্তি রানী বাদী হয়ে লিখন চন্দ্রসহ তিনজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন।

দীপ্তি রানীর অভিযোগ, ‘কলার বাগান নষ্টের অভিযোগে প্রতিবেশী লিখন ও তার পরিবারের লোকজন আমাদেরকে মারধর ও নির্যাতন করে। ক্ষোভে আমার মেয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। আমি এর বিচার চাই।’

ঘটনার পর থেকে লিখন ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাই শ্রাবন্তী ও তার মা দীপ্তি রানীকে মারধর ও অপমান করার অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁদের মুঠোফোনও বন্ধ রয়েছে। গতকাল বিকেলে বাড়িতে গিয়ে তাঁদের ঘর তালাবদ্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। 

শ্রাবন্তীর আত্মহত্যার ঘটনায় বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে এলাকাবাসী। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে লক্ষ্মীপুর বাজার এলাকায় মানবন্ধন করা হয়েছে।