অপহরণের দায়ে দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে দুই শিশুকে অপহরণের দায়ে দুই ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার দুপুরে বিশেষ আদালত-২–এর বিচারক এবং অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ শওকত আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আবুল কাশেম মালিথার ছেলে রাজু মালিথা (২২) ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার মহররমখালী গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে মহররম হোসেন (৩০)।

অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি আঞ্জুমান আরা বেগম ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, রাজু মালিথা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে চাকরি করতেন। সেই সুবাদে নাচোল উপজেলার আলিসাপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আলিসাপুর দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ওসমান আলীর (১৪) সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে ওসমানকে মুঠোফোন কিনে দেওয়ার লোভ দেখান রাজু। ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসমান আলী তার চাচাতো ভাই শাহাদত হোসেনকে (১৩) সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। বেলা তিনটার দিকে ওসমান ও শাহাদতকে অপহরণ করা হয়েছে বলে ওসমানের পরিবারকে ফোন করে জানিয়ে রাজু ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। বিকাশের মাধ্যমে রাজু মালিথাকে ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। রাজু মালিথার সহযোগী হিসেবে কাজ করেন মহররম হোসেন নামের আরেক যুবক। এই দুই অপহরণকারী মিলে একটি মাইক্রোবাসে করে ওসমান ও শাহাদতকে রাজশাহী হয়ে রেলযোগে ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে নিয়ে যান। সেখান থেকে শাহাদত কৌশলে পালিয়ে এসে পরিবারকে বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় ওসমানের বাবা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে নাচোল থানায় অপহরণ মামলা করেন। এরপর র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাবনার চাটমোহর থেকে ওসমানকে উদ্ধার এবং রাজু ও মহররমকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার তদন্ত শেষে নাচোল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কামরুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজু মালিথা ও মহররম হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মামলার শুনানি শেষে গতকাল আদালত দুই আসামির উপস্থিতিতে দুজনকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন।