নিজস্ব জনবল দিয়ে একটি সশস্ত্র ইউনিট করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করার জন্য এঁদের প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে। দুদক আসামি গ্রেপ্তার করতে গেলে প্রশিক্ষিত ওই কর্মীরা অনুমোদিত অস্ত্র বহন করবেন। এ ছাড়া গ্রেপ্তার করার পর অভিযুক্তদের রাখার জন্য একটি নিজস্ব হাজতখানা এবং অপরাধীদের মুঠোফোন অনুসরণ (ট্র্যাকিং) করতে একটি মেশিনও চাওয়া হবে।
এসব বিষয় নিয়ে দুদকের কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিটিআরসিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছেন। বিশেষ করে দুদকে কোনো বাহিনী তৈরি করা না হলে অনুসন্ধান কাজকর্মে গতি আসবে না বলে একজন কর্মকর্তা সরকারকে জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের সচিব আবু মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আসামি গ্রেপ্তারে একটি সশস্ত্র বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে দুদক। আসামিকে গ্রেপ্তারের সময় এসব জরুরি। গ্রেপ্তারের পর আসামিকে আদালতে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁরা কর্মকর্তার কক্ষে বসেন, যা নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। নিজস্ব বাহিনী থাকলে এসব কাজে পুলিশ চাওয়ার দরকার হবে না। প্রথম দফায় আমরা আমাদের কনস্টেবলকে প্রশিক্ষণ দিয়ে শুরু করব। তবে এসবের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা লাগবে।’
স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, এসব বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার মতামতের প্রয়োজন রয়েছে। হাজতখানার বিষয়ে আইনে কী বলা আছে, সেটা দেখতে হবে। এ ছাড়া অস্ত্রের অনুমোদন, বহন করার বিষয়টিও আলোচনা করতে হবে।
দুদকের কর্মকর্তারা প্রথম আলোকে বলেন, নিজস্ব সশস্ত্র কর্মীর ব্যাপারে তাঁরা বরাবর তাগাদা দিয়ে আসছেন। আসামি গ্রেপ্তার করতে দিনে কিংবা রাতে সব সময়ই অভিযান চালাতে হয়। রাতে গ্রেপ্তার করা আসামি থানায় পাঠিয়ে দিতে হয়। পরদিন আবার ডেকে আনা হয়। অন্যদিকে রিমান্ড থেকে আসামিকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের নিজস্ব হাজতখানা না থাকায় ওই আসামিদের কর্মকর্তাদের কক্ষে বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হয়। এ ছাড়া পুলিশও সব সময় সহায়তা করতে চায় না বলে অভিযোগ করেন কর্মকর্তারা। অনেক সময় জরুরি অভিযানে সময়মতো তাদের পাওয়া যায় না। ফলে অভিযান ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে অপরাধী কোথায় আছেন—এ বিষয়টি শনাক্ত করা দুদকের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। দুদক সাধারণত পুলিশ কিংবা অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার সাহায্য নেয়। অনেক সময় তাদের সাহায্য পেতে বিলম্ব হওয়ার কারণে গুরুত্বপূর্ণ অপরাধী হাতছাড়া হয়ে যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের(বিটিআরসি) সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি দুদকের কর্মকর্তা পর্যায়ে অস্ত্র দেওয়ার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে দুদক কর্মকর্তাদের অস্ত্র চালানোর জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র ও গুলি সংরক্ষণের প্রশ্নে উদ্যোগটি পিছিয়ে যায়। পরে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কমিশন।