জীবন ও সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নে আলোচকেরা

আবুল মনসুর আহমদের রচনার প্রভাব চিরকালীন

সাহিত্যের ভেতর দিয়ে আবুল মনসুর আহমদ সামাজিক নানা অসংগতি ও কলুষতা দূর করতে চেয়েছেন। ব্যঙ্গ সাহিত্যকে তিনি উত্তীর্ণ করেছিলেন শিল্পের পর্যায়ে। ব্যঙ্গের মাধ্যমে কাউকে সরাসরি আক্রমণ করার বদলে সামাজিক প্রবণতাগুলোকে আক্রমণের এই কৌশল ব্যবহার করেই তিনি উন্মোচন করেছিলেন ধর্ম ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের মুখোশ। যে কারণে তাঁর রচনার প্রভাব চিরকালীন।

গতকাল বুধবার উপমহাদেশের খ্যাতিমান সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের জীবন ও সাহিত্যকর্মের মূল্যায়নে আলোচকেরা এসব কথা বলেন।

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে এদিন মূলত নূরুল আমিন সম্পাদিত আবুল মনসুর আহমদের শ্রেষ্ঠ গল্প ও ইমরান মাহফুজ সম্পাদিত আবুল মনসুর আহমদ স্মারকগ্রন্থ নিয়ে আলোচনা হয়। প্রথম বইটি প্রকাশ করেছে ডেইলি স্টার বুকস ও দ্বিতীয়টির প্রকাশক প্রথমা প্রকাশন। ডেইলি স্টার বুকসের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বই দুটির সম্পাদক তাঁদের সম্পাদনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন।

আবুল মনসুর আহমদের ছোটগল্প নিয়ে আলোচনায় ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, তিনি সাহিত্যের মাধ্যমে বিনোদন সৃষ্টি করতে চাননি। তাঁর রচনার উদ্দেশ্য ছিল মানুষের চিত্তকে সঞ্চালন করা।

স্মারকগ্রন্থটি নিয়ে প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আবুল মনসুর আহমদ ছিলেন একজন বহুমাত্রিক মানুষ। তাঁর এই বহুমাত্রিকতাকে ধারণ করার জন্য এ স্মারকগ্রন্থটি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন আখতার হুসেন, গোলাম কুদ্দুস, ড. চেঙ্গিস খান, স্বকৃত নোমান ও কাজল রশীদ।

ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহ্‌ফুজ আনাম সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা আবুল মনসুর আহমদকে পড়বেন, জানবেন। ওনার বক্তব্য আপনাদের চেতনায় স্থান করে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।’

আজ শেষ হচ্ছে চৈত্রে বই উৎসব: এদিকে নলিনীকান্ত ভট্টশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে ১০টি প্রকাশনা সংস্থার যৌথ উদ্যোগে ২ এপ্রিল থেকে ‘চৈত্রে বই উৎসব’ চলছে। উৎসব চলবে ১৪ এপ্রিল অর্থাৎ পয়লা বৈশাখ পর্যন্ত। উৎসবে থাকছে বইকেন্দ্রিক নানা আয়োজন। উৎসবে অংশ নিয়েছে অনন্যা, অনুপম, অ্যাডর্ন, কাকলী, ডেইলি স্টার বুকস, প্রতীক, অবসর, প্রথমা প্রকাশন, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বেঙ্গল পাবলিকেশনস ও সময় প্রকাশন। সাধারণের জন্য উন্মুক্ত এই উৎসবে ৩০ থেকে ৪৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি হচ্ছে।