উত্তরার ১০ নম্বর সেক্টরে কবরস্থানের জন্য বরাদ্দ প্লটের অর্ধেকের বেশি জায়গা দখল করে সেখানে গুদামঘর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সেক্টরের ১/এ সড়কের ৭ ও ৯ নম্বর প্লট এবং ২ নম্বর সড়কের ৪১, ৪৩, ৪৪ ও ৪৫ নম্বর প্লট রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ২০১০ সালের ২০ অক্টোবর অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাছে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য হস্তান্তর করে। তবে ১/এ সড়কের প্লট দুটি এবং ২ নম্বর সড়কের ৪১ এবং ৪৪ নম্বর প্লট পরে আবাসিক উদ্দেশ্যে বরাদ্দ দেয় রাজউক কর্তৃপক্ষ। এর পরে ২ নম্বর সড়কের বাকি ৪৩ এবং ৪৫ নম্বর প্লটের ১০ কাঠা জমি সেক্টরের কবরস্থানের জায়গা হিসেবে ছয় বছর ধরে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সম্প্রতি ৪৩ নম্বর প্লটের দুই-তৃতীয়াংশ জমি দখল করে সেখানে একটি গুদামঘর নির্মাণ করা হয়েছে। সেক্টরের বাসিন্দারা বলেন, উত্তরায় প্রয়োজনের তুলনায় কবরস্থানের সংখ্যা ও আয়তন অনেক কম। এরই মধ্যে বরাদ্দ করা জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় কবরস্থানের সংকট আরও বেড়েছে।
গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, সেক্টরের ২ নম্বর সড়কের ৪১ ও ৪৩ নম্বর প্লটের বেশ খানিকটা জায়গাজুড়ে টিনের ছাউনি দিয়ে একটি বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। বাড়িটি কবরস্থানের পাশ ঘেঁষেই বানানো। ওই বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায় বড় বড় বস্তা একটির ওপরে আরেকটি স্তূপ করে রাখা। ভেতরে একজন নারী মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। ‘এটা কিসের ঘর?’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গোডাউন।’ তিনি আর বেশি কিছু বলতে পারেননি। তিনি ছাড়া অন্য কেউ সেখানে ছিলেন না। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে ওই জায়গা আনোয়ার কবির নামের স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দখলে। তাঁর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘আনোয়ার অ্যান্ড কোং’-এর পাট রাখার গুদামঘর হিসেবে জায়গাটি এখন ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিষয়টি জানতে আনোয়ার কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গত রোববার গুদামঘরের বিপরীতে তাঁর বাড়ি ‘তালুকদার ভিলা’য় গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর সংযোগটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ সম্পর্কে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর কল্যাণ সমিতির ব্যবস্থাপক মুক্তার হোসেন বলেন, প্রায় দুই বছর আগে কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক জায়গা এই সেক্টরেরই বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের দখলে চলে যায়। করবস্থানের বিপরীত দিকেই তাঁর বাড়ি। তিনি কবরস্থানের জায়গায় টিনের ছাউনির ঘর নির্মাণ করে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাজে ব্যবহার করছেন। এ নিয়ে সেক্টরের বাসিন্দাদের অনেকের সঙ্গেই এখন তাঁর বিরোধ চলছে।
কল্যাণ সমিতি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৬ মে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন ১০ নম্বর সেক্টর সরেজমিন পরিদর্শন করেন। তখন সেক্টরবাসীর পক্ষ থেকে কবরস্থানের জায়গা দখলের বিষয়টি মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছিল। মন্ত্রী সেদিন উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন। এর চার দিন পরেই ১০ মে কল্যাণ সমিতি থেকে রাজউক কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য একটি আবেদনপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কবরস্থানের জায়গা দখল হওয়ায় সেক্টরের বাসিন্দারা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রবীণ বাসিন্দা রফিকুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুব খারাপ লাগে। কবরস্থানের মতো পবিত্র জায়গাও দখল হয়ে যাচ্ছে। ৪৩ নম্বর প্লটের যেটুকু জায়গা দখল করে গুদামঘর নির্মাণ করা হয়েছে, সেখানে কিছু পুরোনো কবরও ছিল।’ সেক্টরের অনেকেই আক্ষেপ করে বলেছেন, মরার পর দাফন-কাফনের জায়গাও মনে হয় পাওয়া যাবে না।
এ বিষয়ে রাজউক উত্তরা আঞ্চলিক কার্যালয়ের এস্টেট ও ভূমি-২-এর উপপরিচালক বাবুল মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, জায়গাটি ওই ব্যক্তিকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে তিনি সেটা দখল করেছেন। ইতিমধ্যে জায়গাটি দখলমুক্ত করতে নির্বাহী প্রকৌশল বিভাগকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।