উলানবাটোরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী

উলানবাটোরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছবি: ফোকাস বাংলা
উলানবাটোরের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিদায় জানান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। ছবি: ফোকাস বাংলা

একাদশতম এশিয়া-ইউরোপ শীর্ষ সম্মেলনে (আসেম) যোগ দিতে মঙ্গোলিয়ার রাজধানী উলানবাটোরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ছাড়ে।

মঙ্গোলিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে ফ্লাইটটির চেংগিস খান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছার কথা।

মঙ্গোলিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ফজলুল করিম এবং দেশটির প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ ও অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ পি. সাগান বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন।

বিমানবন্দর থেকে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আসেম ভিলায় নিয়ে যাওয়া হবে। দুই দিনের সফরকালে সেখানে অবস্থান করবেন শেখ হাসিনা।

১৫-১৬ জুলাই উলানবাটোরে দুই দিনের এই এই শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

কাল শুক্রবার সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। তিনি মাংরিলা হোটেলের সম্মেলনস্থলে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানাবেন মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্ট তাসখিয়াজিন এলবেগদর্জ।

শেখ হাসিনা শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম ও দ্বিতীয় পূর্ণ অধিবেশনে অংশ নেবেন। আসেমে অংশীদারত্ব ও যোগাযোগ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন তিনি।

আসেম শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে কাল সুইস প্রেসিডেন্ট জন স্কনেইদার, রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেব, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো জেন্টিলোনির সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা।

অতিথিদের সম্মানে আসেম ভিলেজের মঙ্গোলজেনে মঙ্গোলিয়ার প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে এক ভোজসভায়ও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী শনিবার মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিয়াও, ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি, ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক ও ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি জেন ক্লাউড জুনকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন শেখ হাসিনা। তিনি আসেম নেতাদের সমাপনী অধিবেশনেও অংশ নেবেন।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরবেন বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক দুটি সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের বিষয়টিও তিনি তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আসেম হলো ৫১টি এশিয়া ও ইউরোপের দেশ ও দুটি আঞ্চলিক সংস্থার একটি ফোরাম। আরও বেশি ভারসাম্যপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈশ্বিক শৃঙ্খলা অর্জনের লক্ষ্যে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে প্রয়োজনীয় সব পর্যায়ে সম্পর্ক গভীর করতে এই ফোরাম গড়ে তোলা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০১২ সালে এই ফোরামে যোগ দেয়।